img

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ১২ মে ২০২৬

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি স্থাপনের প্রস্তাবে তেহরানের দেওয়া পাল্টা শর্তগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে। একই সাথে বিশ্ব তেলের বাজারের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চেয়েছে তারা। তবে এই দাবিগুলোকে সরাসরি ‘আবর্জনা’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের এই অনড় অবস্থান ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাময়িক শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে তেলের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির একটি। এরই মধ্যে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

যারা অবৈধভাবে ইরানকে চীনে তেল পাঠাতে সাহায্য করছে, সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবিগুলো ন্যায্য এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে সমঝোতা না হলে তারা পুনরায় সামরিক বা অর্থনৈতিক কঠোর পদক্ষেপের দিকে হাঁটবে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় কিউবায় হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছেন। আর তিনি দেশটিতে হামলার যে হুমকি দিচ্ছেন সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করে। যা জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কিউবা কাছে হওয়ায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এখন ট্রাম্প যদি দেশটিতে হামলা চালান তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান চালানো বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরমধ্যে গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিনিরা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জেরে বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণের পর কিউবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল পেত দেশটি।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

কিন্তু গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরীকে কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার কাছের লোকদের বলেন, রণতরী মোতায়েন এবং সেটি কিউবার কাছে নিয়ে গেলে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে কিউবায় হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার মনোযোগ ইরানে নিয়ে গেলে তখন আর হামলা হয়নি।

সূত্র: এক্সিওস


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর