img

চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবে সমর্থন ইরানের

প্রকাশিত :  ১৫:৫১, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৮, ১১ মে ২০২৬

চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবে সমর্থন ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। 

চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুর রেজা রহমানি ফাজলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা।

চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপত্তা কাঠামো: মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি যৌথ, ব্যাপক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক ও শান্তি বজায় রাখা।

২. জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে পূর্ণ সম্মান জানানো এবং দেশগুলোর জনগণ ও স্থাপনার নিরাপত্তা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা।

৩. আন্তর্জাতিক আইনের অনুসরণ: বিশ্বকে 'জঙ্গলের আইন' বা আইনহীনতায় ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।

৪. উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়: শুধুমাত্র সামরিক শক্তি নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। ইরানের এই অবস্থান মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ভূমিকার প্রতি একটি ইতিবাচক সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

ফাজলি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, অভিন্ন উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের এই পরিকল্পনা একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে।

এর আগে বেইজিং সফররত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই চার দফা শান্তি প্রস্তাবটি পেশ করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে এই প্রস্তাবটি বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

ইরানের এই প্রকাশ্য সমর্থন বেইজিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় কিউবায় হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছেন। আর তিনি দেশটিতে হামলার যে হুমকি দিচ্ছেন সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করে। যা জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কিউবা কাছে হওয়ায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এখন ট্রাম্প যদি দেশটিতে হামলা চালান তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান চালানো বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরমধ্যে গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিনিরা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জেরে বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণের পর কিউবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল পেত দেশটি।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

কিন্তু গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরীকে কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার কাছের লোকদের বলেন, রণতরী মোতায়েন এবং সেটি কিউবার কাছে নিয়ে গেলে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে কিউবায় হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার মনোযোগ ইরানে নিয়ে গেলে তখন আর হামলা হয়নি।

সূত্র: এক্সিওস


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর