img

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ

প্রকাশিত :  ০৯:০৬, ১২ মে ২০২৬

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।  সোমবার (১১ মে) এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ’ নিয়ে এ ঐকমত্যে পৌঁছান।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার কারণে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বহুল প্রতিক্ষীত ছিল। এতদিন ইইউভুক্ত হাঙ্গেরির সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এ উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদলে এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পিটার মাজিয়ার। এখন ইইউর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগের সেই জটিলতা কাটছে।

তিনজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং বসতি স্থাপনকারী চারটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ইইউর। তাদের নাম–পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ঐকমত্যের পর ইইউর পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘অচলাবস্থা কাটিয়ে (নিষেধাজ্ঞা) বাস্তবায়নের এটাই উপযুক্ত সময়।’

ঐকমত্যের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও সহিংস উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ায় সমর্থনকারী প্রধান ইসরাইলি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে ইইউ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

অবশ্য অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিষয়ে ইইউর এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইইউ কোনোরকমের ভিত্তি ছাড়াই শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে খেয়ালখুশি মতো এবং রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।‘

ইসরাইলের কট্টরপন্থি নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ইইউর নেতারা হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একমত হয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় কিউবায় হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছেন। আর তিনি দেশটিতে হামলার যে হুমকি দিচ্ছেন সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করে। যা জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কিউবা কাছে হওয়ায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এখন ট্রাম্প যদি দেশটিতে হামলা চালান তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান চালানো বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরমধ্যে গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিনিরা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জেরে বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণের পর কিউবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল পেত দেশটি।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

কিন্তু গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরীকে কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার কাছের লোকদের বলেন, রণতরী মোতায়েন এবং সেটি কিউবার কাছে নিয়ে গেলে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে কিউবায় হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার মনোযোগ ইরানে নিয়ে গেলে তখন আর হামলা হয়নি।

সূত্র: এক্সিওস


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর