img

হয় চুক্তি করবে, না হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে: ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৬:৪৬, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২২, ১৫ মে ২০২৬

হয় চুক্তি করবে, না হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে: ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে হয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, নয়তো সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, তারা হয় চুক্তি করবে, না হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্প্রচার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে এই হুমকি দিয়েছেন। খবর আলজাজিরার। 

তিনি বলেন, তেহরান তাদের কিছু সমরাস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে। তারা কী প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরা তা পুরোপুরি জানি।

ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল মোতায়েনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, তারা ভূগর্ভ থেকে কিছু মিসাইল বের করেছে। হামলা হলে একদিনের মধ্যেই সেগুলোর অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান ইরানি প্রশাসনের বিষয়ে একটি মিশ্র মূল্যায়ন তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাদের কূটনৈতিক আচরণের ধরনে পরিবর্তন এসেছে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় অনেক দিক থেকেই তারা এখন অনেক বেশি যৌক্তিক।

সাবেক কর্মকর্তাদের চেয়ে নতুন কর্মকর্তাদের ‘বেশি বুদ্ধিমান’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, নতুনরা প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, যারা এখন আর দায়িত্বে নেই।

ইরানের ভূখণ্ড থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, এটি নিরাপত্তার চেয়ে প্রচারণার বিষয়। তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে এটি খুব প্রয়োজন, তবে জনসংযোগের দিক থেকে এর গুরুত্ব আছে।

হাস্যরসের সুরে তিনি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমের জন্য এটি উদ্ধার করা জরুরি। আর আমিই প্রথম বলেছিলাম যে, আমরা এটি উদ্ধার করব।

লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ট্রাম্প বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি না হয়, তবে আপনাদের ইরান থেকে শুধু বিশাল আলো বেরোনোর ​​দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। তাদের দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত। যদি তারা স্বাক্ষর না করে, তবে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মোদি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র হলেও বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১০:১১, ১৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের এভিয়ানে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি বলেছেন, মোদিকে দেখতে ‘দেবদূতের মতো’ এবং অত্যন্ত ভদ্র বলে মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন ‘টোটাল কিলার’। তবে ট্রাম্প শব্দটি ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে। অর্থাৎ মোদির কঠোর নেতৃত্ব ও দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করতেই এমনটা বলেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এসময় মোদিকে ‘খুবই কঠিন’ এবং ‘দক্ষ দরকষাকষিকারী’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’

এদিন ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। এখানে উপস্থিত সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’

ট্রাম্প মোদিকে ‘ভদ্র কিন্তু কঠোর’ বলেও উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে তিনি খুবই ভালো মানুষ। আমি বলি, তিনি খুবই কঠোর। তিনি একজন দক্ষ দরকষাকষিকারী। তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা আবার ভারত সফরে যাব।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে। আমাদের দেশে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসছে। আমরা কারখানা গড়ছি, নানা ধরনের উন্নয়ন করছি। প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বিনিয়োগ করছেন। আমরা সেটির প্রশংসা করি। আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো ছিল। আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

অন্যদিকে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ায় ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘নতুন গতি’র কথাও উল্লেখ করেন। 

মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে। আপনি এবং আমি একমত যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সবসময়ই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত এবং বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর