img

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৮, ১৩ মে ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের শিরোনাম, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে অপারেশন স্লেজহ্যামার নিয়ে আলোচনা করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি শুরু হওয়ার কথা।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধ করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। 

এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো চলছে কারণ, তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না করা পর্যন্ত নতুন আলোচনায় জড়িত হতে অস্বীকার করেছে।

 এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধের সমাপ্তি- বিশেষ করে লেবাননে - নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পরে এটি সামনে এলো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করেছিল। তারপর ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। 

সূত্র: আনাদোলু


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর