img

স্কুলে হিজাব পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

প্রকাশিত :  ০৫:৪২, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০২, ১৪ মে ২০২৬

স্কুলে হিজাব পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার ২০২২ সালে জারি করা বিতর্কিত স্কুল ইউনিফর্ম–সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। নতুন এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে হিজাব, পৈতাসহ ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে কর্ণাটকে হিজাব বিতর্ক তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। সে সময় জারি করা নির্দেশনায় ধর্মীয় প্রতীক ছাড়া কঠোরভাবে ইউনিফর্ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল। নতুন আদেশে সেই নির্দেশনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে—শিক্ষার্থীরা পাগড়ি, পেটা, জেনেউ, শিবধারা, রুদ্রাক্ষ কিংবা হিজাবের মতো প্রতীক পরতে পারবে। তবে তা যেন শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্তকরণ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। 

একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীকে এসব প্রতীক পরার কারণে শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা বা শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধা দেওয়া যাবে না। আবার কাউকে জোর করে এসব প্রতীক পরতে বা খুলতেও বাধ্য করা যাবে না।

তবে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ড্রেস কোড কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন ধর্ম, সংস্কৃতি বা পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না করে।

কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা বলেন, গত বছর এবং চলতি বছরের এপ্রিলেও কিছু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় প্রতীক খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও ভবিষ্যতের পথে এসব বিষয় বাধা হওয়া উচিত নয়। এগুলো মানুষের ধর্মীয় চর্চার অংশ।’

তবে রাজ্যটির বিরোধীদল বিজেপি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বিজেপি বিধায়ক ভরত শেঠি বলেছেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা গিরিশ ভারতদ্বাজও বলেন, যদি হিজাব অনুমোদন করা হয়, তবে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গেরুয়া শাল পরার সুযোগও দিতে হবে।

কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানের জায়গা নয়; বরং সমতা, ভ্রাতৃত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা ও পারস্পরিক সম্মানের মতো সাংবিধানিক মূল্যবোধ শেখানোরও ক্ষেত্র।


 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মোদি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র হলেও বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১০:১১, ১৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের এভিয়ানে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি বলেছেন, মোদিকে দেখতে ‘দেবদূতের মতো’ এবং অত্যন্ত ভদ্র বলে মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন ‘টোটাল কিলার’। তবে ট্রাম্প শব্দটি ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে। অর্থাৎ মোদির কঠোর নেতৃত্ব ও দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করতেই এমনটা বলেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এসময় মোদিকে ‘খুবই কঠিন’ এবং ‘দক্ষ দরকষাকষিকারী’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মানুষটিকে দেখুন। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি সবচেয়ে সুন্দর চেহারার মানুষদের একজন। তাকে দেখতে এতটাই ভদ্র ও শান্ত লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোটাল কিলার। তবে তাকে দেখতে এত ভালো লাগে যে তিনি আপনাকে অবাক করে দেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।’

এদিন ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাবে। এখানে উপস্থিত সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের অসাধারণ শ্রদ্ধা রয়েছে।’

ট্রাম্প মোদিকে ‘ভদ্র কিন্তু কঠোর’ বলেও উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে তিনি খুবই ভালো মানুষ। আমি বলি, তিনি খুবই কঠোর। তিনি একজন দক্ষ দরকষাকষিকারী। তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা আবার ভারত সফরে যাব।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে। আমাদের দেশে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসছে। আমরা কারখানা গড়ছি, নানা ধরনের উন্নয়ন করছি। প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বিনিয়োগ করছেন। আমরা সেটির প্রশংসা করি। আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো ছিল। আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

অন্যদিকে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ায় ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘নতুন গতি’র কথাও উল্লেখ করেন। 

মোদি বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে। আপনি এবং আমি একমত যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সবসময়ই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত এবং বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর