img

হরমুজ দিয়ে কোন কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৫৭, ১৫ মে ২০২৬

হরমুজ দিয়ে কোন কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই । তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি সত্যিকারের আন্তরিক হয়, তবেই আলোচনায় বসতে আগ্রহী ইরান। খবর আল আরাবিয়ার। 

আজ শুক্রবার (১৫ মে) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি এমন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়—এমন সব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে যেসব জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে চায়, তাদের অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। তিনি আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনও কোনো ঐকমত্য হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে স্থগিত হয়ে গেছে। উভয়পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে, যার কারণে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ইরান সন্দেহে ভুগছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা একেবারে ব্যর্থ হয়নি, বরং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে।

তিনি আরও যোগ করেন, কূটনীতির সুযোগ দিতে ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজন হলে আবারও যুদ্ধে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মূল আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে আরাগচির এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় তিনি একমত হয়েছেন যে, ইরানকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

প্রেমিককে দিয়ে বাবার বাড়িতেই ডাকাতি করালেন তরুণী

প্রকাশিত :  ১১:৩৩, ১৫ মে ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে শহরে এক পিতল ব্যবসায়ীর মেয়ের বিরুদ্ধে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতেই প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ডাকাতির ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিন্ন জাতে সম্পর্ক মেনে নিতে পরিবারের আপত্তির জেরে ওই তরুণী তার প্রেমিক ও সহযোগীদের বাড়িতে প্রবেশ ও ডাকাতি সংঘটনে সহায়তা করেন।

আজ শুক্রবার (১৫ মে) এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১১ মে ভোরে মুরাদাবাদের এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

মুরাদাবাদ পুলিশ জানায়, গত ১১ মে ভোর ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। 

যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে যায় যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ইমরানের মেয়ে আরিবা গত সাত-আট বছর ধরে আমরাহ জেলার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। ভিন্ন জাতের হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা দুজনে মিলে বাড়ি থেকে টাকা লুট করে নতুন জায়গায় জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরিবা তার প্রেমিককে বাড়িতে কত টাকা রাখা আছে সেই তথ্য দেন। এমনকি এক মাস আগেই তিনি আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি সরবরাহ করেছিলেন এবং ঘটনার দিন রাতে ডিজিটাল লকটি ভেতর থেকে খুলে দেন, যাতে ডাকাতরা সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ টাকা, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি টাকা ও অলঙ্কার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিজের মেয়ের এমন বিশ্বাসহীনতায় ব্যবসায়ীর পরিবারে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর