img

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না সৌদি আরব ও পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ১৯:২৯, ২৬ মে ২০২৬

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না সৌদি আরব ও পাকিস্তান

ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে দেশটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাতে রিয়াদের এ কঠোর ও অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ মন্তব্যের পর সৌদি আরবের এই দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে এসেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে একটি সামগ্রিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে একে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প।

তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রিয়াদ তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি। সৌদি নীতির মূল কথাই হলো, তেল আবিবের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে শামিল হবে বলে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। এর পাশাপাশি ট্রাম্প একটি কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখেন। তিনি জানান, যদি এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে এমন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে যা ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনে আরও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিগত বছরের নভেম্বর মাসে আয়োজিত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সিএনএন-এর সূত্র মারফত জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই প্রস্তাবের উত্তরে সৌদি যুবরাজ স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির অংশীদার হতে আগ্রহী, তবে তার জন্য একটি অবশ্য পালনীয় শর্ত রয়েছে। সেই শর্তটি হলো—দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে হওয়া সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে অত্যন্ত গঠনমূলক হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি সেই সময়ে আরও যোগ করেন যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের এই লক্ষ্য পূরণের জন্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও শর্তাদি তৈরি করতে রিয়াদ তাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে সার্বক্ষণিক কাজ করে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সৌদি আরবের পাশাপাশি ট্রাম্পের এই আহ্বানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আহ্বান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উচিত হবে না তার সামনে নতি স্বীকার করা। গণমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব কোনোভাবেই পাকিস্তানের নিজস্ব মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

সামা টিভির একটি আলোচিত টক শো-তে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে খাজা আসিফ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে পাকিস্তানের এমন কোনো চুক্তিতে সই করা উচিত যা দেশের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেবে না। নিজেদের ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং এই নীতিগত কারণে পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশটির কোনো নাগরিকের ইসরায়েল ভ্রমণের আইনি অধিকারও নেই।

বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বিস্তারের জন্য জোর তৎপরতা ও চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ফিলিস্তিনের মূল সংকটকে একপাশে সরিয়ে রেখে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশ এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী পাকিস্তানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য আগামী দিনে একটি বিশাল ও জটিল চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে ৬ মুসলিম দেশকে কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৭, ২৬ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘জটিল সংকটের’ সমাধান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ছয়টি মুসলিম দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।

আজ সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই শর্তের কথা জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। এটি সবার জন্যই একটি ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’ 

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।’

এর আগে, শনিবার (২৩ মে) মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম-প্রধান আটটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রেখেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’

তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতোমধ্য এই চুক্তির সদস্য।

তবে দীর্ঘ ওই পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইসরাইলের নাম নেননি। ফলে তিনি প্রচলিত অর্থে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের কথা বলেছেন, নাকি আরও বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়। 

উল্লেখ্য, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এরপর অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এক বা দুটি দেশের অংশ না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য। তবে বেশিরভাগ দেশেরই প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম থাকা উচিত, যাতে ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়।’

তবে ট্রাম্প যে ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর