img

ইরানে নতুন করে হামলার পর যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ২৬ মে ২০২৬

ইরানে নতুন করে হামলার পর যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালানোর কারণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এখনো দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। 

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুর সফরকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

মার্কো রুবিও বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা দেখতে চাই, কোনো অগ্রগতি করা যায় কিনা। আমার মনে হয়, প্রাথমিক নথির নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে দু\'পক্ষের মধ্যে অনেক আলোচনা চলছে। তাই এটি চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) চুক্তি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।’

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা কাতারের দোহায় পৌঁছানোর পরই এসব হামলা চালানো হয়।

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান।

এ প্রসঙ্গে মার্কো রুবিও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা থাকতে হবে। একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এই নৌপথ খোলা থাকবেই। তাই এটি খোলা রাখা প্রয়োজন। সেখানে যা ঘটছে, তা অবৈধ এবং বিশ্বের জন্য টেকসই নয়। এটি অগ্রহণযোগ্য।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে ৬ মুসলিম দেশকে কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৭, ২৬ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘জটিল সংকটের’ সমাধান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ছয়টি মুসলিম দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।

আজ সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই শর্তের কথা জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। এটি সবার জন্যই একটি ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’ 

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।’

এর আগে, শনিবার (২৩ মে) মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম-প্রধান আটটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রেখেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’

তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতোমধ্য এই চুক্তির সদস্য।

তবে দীর্ঘ ওই পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইসরাইলের নাম নেননি। ফলে তিনি প্রচলিত অর্থে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের কথা বলেছেন, নাকি আরও বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়। 

উল্লেখ্য, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এরপর অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এক বা দুটি দেশের অংশ না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য। তবে বেশিরভাগ দেশেরই প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম থাকা উচিত, যাতে ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়।’

তবে ট্রাম্প যে ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর