img

গ্রিনকার্ডের আবেদনে নতুন নিয়ম চালু করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৫:৫৩, ২৩ মে ২০২৬

গ্রিনকার্ডের আবেদনে নতুন নিয়ম চালু করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি অথবা গ্রিনকার্ডের আবেদনের জন্য এখন থেকে অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর দেশটিতে অবস্থান করার প্রয়োজন নেই। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তারা আবেদন করতে পারবেন।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অধীন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস- ইউএসআইএস)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস আজ এই মর্মে ঘোষণা দিচ্ছে, যেসব বহিরাগত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তারা যেন অবশ্যই দেশের বাইরে থেকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন। যুক্তরাষষ্ট্রের অভিবাসন আইন এবং অভিবাসন আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গ সঙ্গতি রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশি এই অসাধারণ প্রতিকার ব্যবস্থার যোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করার সময় কর্মকর্তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় এবং তথ্য বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষাধিক অস্থায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ পর্যটক বা দর্শনার্থী এবং কেউ বা কর্মভিসায় প্রবেশ করেন দেশটিতে। এই ভিসাধারীদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য থাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন অথবা গ্রিনকার্ড প্রাপ্তি। এতদিন এই বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্র না ছেড়েই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন এবং এটি জরুরি ছিল। ‘অবস্থার সমন্বয়’ (অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্ট্যাটাস) নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং সহজলভ্যও ছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে এ আবেদনের জন্য আর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা জরুরি নয়। দেশে ফিরে অস্থায়ী ভিসার নথি প্রদর্শনের মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন আবেদন করতে পারবেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অধীন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নতুন এই নিয়মের নাম দিয়েছে ‘অসাধারণ প্রতিকার ব্যবস্থা’ (এক্সট্রা-অর্ডিনারি ফর্ম অব রিলিফ)।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অভিবাসন ইস্যুতে প্রায় নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। গত দেড় বছরে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক নথিবিহীন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশান, আরও কয়েক লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে রাখা হয়েছে বিশেষ বন্দিশালায়। ইতোমধ্যে ৭০টি দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভিসা প্রদানের হার অনেকাংশে হ্রাস করা হয়েছে।

মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের সংখ্যা কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র : এএফপি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ছে

প্রকাশিত :  ১৯:০৪, ২৩ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও হস্তান্তরের বিষয়টি কাঠামোগত আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি আবারও সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমানো বা অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে দ্য ইসরায়েল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু অবরোধ শিথিল এবং নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় বিবেচনা করছে।

তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু ও শর্ত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সংলাপের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচির নিরস্ত্রীকরণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর