img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, চটলেন ট্রাম্পের ওপর

প্রকাশিত :  ০৫:১৩, ২১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৬, ২১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, চটলেন ট্রাম্পের ওপর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর হতাশা এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে বিলম্ব করার এই সিদ্ধান্ত কেবল তেহরানকেই কৌশলগতভাবে লাভবান করছে।

মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) এক উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপ কীভাবে নেওয়া উচিত, সেই বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ফোনালাপ চলাকালীন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার জন্য তীব্র চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি যুক্তি দেন, আলোচনা বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হলে তা ইরানকে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দেবে।

অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যেকোনো উপায়ে একটি নতুন কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাঁর প্রচেষ্টা এবং চাপ অব্যাহত রেখেছেন। তবে আলোচনার টেবিলে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সাথে এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প পথটি এখনও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দেশে দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব, কড়া প্রতিবাদ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ২১ মে ২০২৬

বিশ্বের বহু দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ গাজামুখী নৌবহরের আটক কর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের প্রতিবাদে রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

বুধবার (২০ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। এরপরই দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বিদ্রূপ করছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গাভিরের এই দৃশ্যগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। ইতালির বহু নাগরিকসহ এসব প্রতিবাদকারীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা তাদের মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারোও বেন-গাভিরের কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ফরাসি নাগরিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে অটোয়া ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি বেসামরিক মানুষের মানবিক আচরণের প্রশ্ন। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

নেদারল্যান্ডসও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন। তিনি বলেন, বেন-গাভিরের আচরণ মৌলিক মানবিক মর্যাদার পরিপন্থি।

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বলে বুধবার জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। তিনি ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এর আইনি ভিত্তি কী? এটা কি ইসরায়েলের আঞ্চলিক জলসীমা? সেটি কি ইসরায়েলের ভূখণ্ড? কোনো সংঘাত থাকলেই কি তারা তৃতীয় দেশের জাহাজ জব্দ ও আটক করতে পারে?

পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বেন-গাভিরের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের হাত বেঁধে অপমান ও নির্যাতনের দৃশ্য প্রকাশ করে বেন-গাভির নিজ দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, জার্মানি, পোল্যান্ড, কাতার, স্লোভেনিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কলম্বিয়া ও যুক্তরাজ্যও নিন্দা জানিয়েছে।

এর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক অন্তত ৮৭ জন ব্যক্তি অনশন শুরু করেছেন। এই অনশন অবৈধ আটকের প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য শুরু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ‘লিনা আল-নাবলুসি’ নামের নৌকায় থাকা ছয়জনকে আটক করেছে বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই নৌকাটি ছিল ৫০টিরও বেশি জাহাজের বহরের শেষ জাহাজ। এটি গত সপ্তাহে তুরস্কের বন্দরনগরী মারমারিস থেকে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙা।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার গভীর রাতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী নৌবহরের শত শত অংশগ্রহণকারীকে ইসরায়েলে নিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “আরেকটি প্রচারণামূলক নৌবহর অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে। বহরের ৪৩০ কর্মীকে ইসরায়েলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা ইসরায়েলের পথে রয়েছে।”


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর