ইরান যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মামদানি বললেন, এটার শেষ হতেই হবে
প্রকাশিত :
০৮:০৫, ২৯ মে ২০২৬
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এ সংঘাত বিদেশে অবস্থানরত বেসামরিক মানুষ এবং দেশের শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
তার মতে, যুদ্ধের কারণে উভয় পক্ষের সাধারণ মানুষই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মামদানি বলেন, ‘আজ থেকে তিন মাস আগে এমন একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যার জন্য কেউ ভোট দেয়নি— এবং এর মূল্য দিতে হয়েছে এমন মানুষদের যাদের এ বিষয়ে কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগই ছিল না।’
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক এ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এবং যে ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য এ যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, তারা আর কখনো তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এবং আমাদের শহরের আমেরিকানরা এ যুদ্ধের কারণে পেট্রোল পাম্প ও মুদি দোকানের পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়তে দেখেছেন। কংগ্রেসের একটিও ভোট ছাড়াই শুরু হওয়া এ যুদ্ধের কারণে তাদের বাজেটও চাপের মধ্যে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই এ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছি। এখনও এর বিরোধিতা করি। এটার অবসান ঘটাতেই হবে।’
ইসরায়েলবিরোধী জনমত তৈরিতে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু
প্রকাশিত :
১২:৪৩, ২৯ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৮, ২৯ মে ২০২৬
নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকেও দায়ী করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ বা ‘বট ফার্ম’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান।
তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটকে দুর্বল করতে চায়, তারা বট ফার্ম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রভাবিত করছে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড তাদের প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখনও এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে ইসরায়েলকে সম্মান করা হয়। ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি, আর সেখানে ইসরায়েল খুবই জনপ্রিয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এখানে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। আর আমি যখন স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলাম, সেটি ছিল যেন ভালোবাসার এক উৎসব।’
নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন সারা বিশ্বেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তার জনপ্রিয়তা কমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছর এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।
একই জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বৈশ্বিক কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর খুব কম আস্থা রাখেন বা একেবারেই আস্থা রাখেন না। গত বছর এ হার ছিল ৫২ শতাংশ।
পশ্চিম তীরের একটি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের ‘অনন্য সম্পর্কের’ কথা বলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিরূপ মনোভাব বাড়লেও ভারতে দেশটির প্রতি সমর্থন কমেনি বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক অনন্য এবং দেশটিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ‘অবিশ্বাস্য রকমের’। একই সঙ্গে নিজের জনপ্রিয়তা কমার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের কার্যক্রমকে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিশ্বের অনেক জায়গায় ইসরায়েলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও ভারতে এমন পরিস্থিতি নেই বলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক স্থানে আমাদের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা খর্ব করার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা, কিন্তু ভারতে (এমনটা মোটেও) নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন একেবারে অবিশ্বাস্য, সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
তার দাবি, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বের অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় ভারত থেকেই (আমার) বেশি অনুসারী রয়েছে।’
অবশ্য এটাই প্রথম নয়, এর আগেও ভারতে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। তিনি ২০১৮ সালে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লি সফরের অভিজ্ঞতাকে ‘ভালোবাসার উৎসব’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয়দের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ‘অসাধারণ সম্মান’ রয়েছে।