নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

img

‘আপনি একটা আস্ত উন্মাদ, আমি না থাকলে আপনি জেলে যেতেন’

প্রকাশিত :  ০৫:১১, ০২ জুন ২০২৬

‘আপনি একটা আস্ত উন্মাদ, আমি না থাকলে আপনি জেলে যেতেন’

লেবানন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপর মেজাজ হারালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্যালাপ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনযায়ী, লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এবং তার জেরে আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা এবং তার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ইজরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা নিয়ে ট্রাম্প প্রচণ্ড বিরক্ত। 

ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেন। 

সূত্রের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উন্মাদ বলেছেন। 

উত্তেজিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি একটা আস্ত উন্মাদ। আমি না থাকলে আপনি জেলে যেতেন। আমিই আপনার জীবন বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এই কারণে সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’ এমনকি শোনা গিয়েছে, ফোনালাপ চলাকালীন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এক পর্যায়ে চিৎকার করে বলেন ওঠেন, ‘আপনি এসব কী করছেন?’

লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন এবং বড় আকারের বিমান হামলা ট্রাম্পের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এই সামরিক তৎপরতা ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান স্পর্শকাতর কূটনৈতিক আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, লেবাননে ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার পথ রুদ্ধ হতে পারে।

এই উত্তপ্ত কথোপকথনের পরই পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাম্প পরে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং বেইরুটের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি হেজবোল্লার সঙ্গেও হামলার বিরতি নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বার্তার উলটো সুর শোনা গেছে নেতানিয়াহুর কণ্ঠে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চলবে। পাশাপাশি, হেজবোল্লার আক্রমণ বন্ধ না হলে প্রয়োজনে পুনরায় বেইরুটে হামলার অধিকারও ইজরায়েলের রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দুই নেতার এই টানাপোড়েন যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কাছাকাছি, খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

প্রকাশিত :  ০৬:৩০, ১৩ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। খবর বিবিসির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনা শুরু হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলেই কেবল দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। এ পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ পরিবহন করা হয়।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝে হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানান, আলোচনাকারীরা একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক হামলা বাতিল করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ট্রাম্প সেসব তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রকাশিত শর্তগুলোর সঙ্গে প্রকৃত সমঝোতার কোনো মিল নেই।

অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক চূড়ান্তকরণের অপেক্ষা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর