img

রাগ করে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:২৮, ০৮ জুন ২০২৬

রাগ করে এনবিসির সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিয় রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ অংশ নেওয়ার সময় এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সাক্ষাৎকারের মাঝপথেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ভিত্তিহীন কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করলে অনুষ্ঠানের খ্যাতনামা সঞ্চালক ক্রিসটেন ওয়েলকার তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দাবি করেন এবং এর জের ধরেই দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। 

শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিন সফরের সময় একটি উন্মুক্ত খামারে বিশেষ সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয় যা রোববার (৭ জুন) টেলিভিশনে ও অনলাইনে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়।

এনবিসি নিউজের ওভাল অফিস স্টুডিও সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকার চলাকালে প্রবল বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে একাধিকবার যান্ত্রিক শব্দজনিত বিঘ্ন দেখা দিলেও দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত ছিল। ইরান সংকট, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ প্রশ্নোত্তরের একপর্যায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে দুজনের মধ্যে চরম বিতর্ক শুরু হয়। 

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে সঞ্চালক ক্রিসটেন ওয়েলকার উল্লেখ করেন যে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট গণনার ধীরগতি ও প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরেই আইনগতভাবে এমন। এর জবাবে ট্রাম্প জোরালো দাবি করেন যে অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনে ব্যাপক ‘কারচুপি’ হয়েছে, তবে নিজের এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ওয়েলকার বারবার প্রমাণ চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এসব শুনেছেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এমন মন্তব্য করছেন।

এরপর স্টুডিওর ভেতরের আলোচনা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে আমেরিকার মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ উভয়ই চরম পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি এনবিসি নেটওয়ার্ক, ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান এবং খোদ সঞ্চালক ওয়েলকারকে ব্যক্তিগতভাবে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে আখ্যা দেন। 

ওয়েলকার পেশাদারিত্বের সাথে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প পাল্টা দাবি করেন যে সঞ্চালকের করা প্রশ্নগুলো মূলত তার রাজনৈতিক বিরোধীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। সাক্ষাৎকারের আরেক পর্যায়ে ট্রাম্প তার পূর্ববর্তী দাবি পুনরাবৃত্তি করে বলেন, গত ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক ক্যালিফোর্নিয়া প্রাইমারিতে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম হয়েছে। ওয়েলকার তখনও সত্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে নিজের সাংবাদিকতার অবস্থানে অনড় থাকেন।

একপর্যায়ে ট্রাম্প চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সঞ্চালক ওয়েলকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি হয় পক্ষপাতদুষ্ট, নয়তো বোকা’। এরপর তিনি আকস্মিকভাবে সাক্ষাৎকার শেষ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দুঃখিত। আসুন এখানেই শেষ করি। আমার অনেক হয়েছে। ধন্যবাদ, প্রিয়। ভালো থাকবেন’। 

এই কথা বলেই তিনি নিজের গায়ের মাইক্রোফোন খুলে ফেলার ভঙ্গি করেন এবং আসন ছেড়ে দ্রুত উঠে দাঁড়ান। ক্রিসটেন ওয়েলকার তাকে শান্ত হয়ে সাক্ষাৎকার চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প জানান, তিনি বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছেন এবং যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এবিসি, সিবিএস ও সিএনএনসহ অন্যান্য মূলধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যমেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারটি শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটন স্টুডিও থেকে সঞ্চালক ওয়েলকার দর্শকদের জানান, আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন ও উত্তেজনার বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠান শেষে পরে তার সঙ্গে ট্রাম্পের ইতিবাচক কথা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আরেকটি নতুন সাক্ষাৎকার দিতে সম্মত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে; বিশেষ করে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে প্রমাণ চাওয়ার পর দেশের খোদ প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ২৮ জন নিহত

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৩, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশুও রয়েছে।

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা আক্রান্ত হন। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও বিকৃত ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং একজনের বয়স আট বছর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও অনেক। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের এই অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

প্রিলুকির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণে জানালার কাচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা শরীর দিয়ে আমাদের শিশুকে আগলে রেখেছিলাম। স্বামীর পিঠে আর আমার শরীরেও কাটাছেঁড়া হয়েছে। সন্তানের প্রচণ্ড ভয় হয়েছিল, নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমে চলে যাই। চারপাশের সবকিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন জেলেনস্কি রাশিয়ার ব্যাপক হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সেই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসায় রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। অনেক বাসিন্দা ব্যাগ, মাদুর আর কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে বসে এএফপিকে বলেন, আমরা জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। পুরো কিয়েভ এখন আতঙ্কে। আজ কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। গ্রুপ চ্যাট আর বস সবাই সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিল।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন ছুড়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ঘৃণ্য হামলা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি থাকা ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলায় রাশিয়ার কোনো সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।

সূত্র: এএফপি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর