img

ইরানের শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিচ্ছে আমিরাত: রয়টার্সের প্রতিবেদন

প্রকাশিত :  ০৬:০৪, ১৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১১, ১৩ জুন ২০২৬

ইরানের শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিচ্ছে আমিরাত: রয়টার্সের প্রতিবেদন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির গুঞ্জনের মধ্যেই ইরানের জব্দকৃত কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড় দিতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের একের পর এক হামলার মুখে পড়ে শেষমেশ এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে আবুধাবি।

আজ শনিবার (১৩ জুন) নির্ভরযোগ্য চারটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার এই মন্তব্যের পরপরই ইরানের আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির শত কোটি ডলার ছাড়ের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক দুটি সূত্র দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভিন্ন দুটি সূত্রের দাবি—জব্দকৃত এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মূলত আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা পুরোপুরি বন্ধের শর্তেই এই গোপন সমঝোতা হয়েছে।

অবশ্য রয়টার্সের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে আবুধাবি। বিবৃতিতে বলা হয়, "ইরানের জব্দকৃত কোনো অর্থ আমিরাতের মাধ্যমে স্থানান্তর বা ছাড় দেওয়া হয়নি।" একই সাথে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমিরাতের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইউএই আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগসহ যেসব প্রচেষ্টা অঞ্চলের জনগণকে সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, আবুধাবি তা সমর্থন করে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, "চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের জব্দ করা সমস্ত অর্থ একবারে ছাড় দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ইরান নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পায়।" তবে এই পুরো বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আশ্বাস ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৭:২২, ১৫ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৪ জুন) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এখন অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

উপদেষ্টা উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করা জরুরি।’

তিনি জানান, ট্রাম্প ইউরোপীয় অংশীদার এবং কিয়েভের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত।

উশাকভ আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই আবার রাশিয়া সফর করবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে কিছুটা স্থবির হয়ে আছে, কারণ ওয়াশিংটনের মূল মনোযোগ এখন ইরান সংকটের দিকে। রোববারের ফোনালাপে ট্রাম্প ও পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

উশাকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং কঠিন হলেও সফল আলোচনার ফলাফল শিগগিরই প্রকাশ করা যেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।’

তিনি আরও জানান, পুতিন অনানুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে তার ৮০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রুশ আগ্রাসন এবং যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রোববার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে, জেলেনস্কিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ‘আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। আমি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমাদের অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত করেছি।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের কাছে কিছু ভালো ধারণা রয়েছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। ‘

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর