img

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১০:২৬, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৯, ০৯ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট উদ্ধার

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি যুদ্ধহেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটির দুই পাইলট প্রাণে বেঁচে গেছেন।

এ বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে হেলিকপ্টারটির দুই আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

হেলিকপ্টারটি ইরানি বাহিনীর গুলিতে, না যান্ত্রিক গোলযোগে অথবা অন্য কোনো সমস্যার কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হেলিকপ্টারটির দুই পাইলট ‘ভালো’ আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওই পাইলটরা ভালো আছেন। হ্যাঁ, কেউ আঘাত পায়নি। এ বিষয়ে আগামীকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবো আমরা। তবে পাইলটরা ভালো আছেন।”

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ পরিষ্কার হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে বিদেশি খবরের বরাত দিয়ে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কথা জানিয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে গণমাধ্যমগুলোর জানানো অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর বহির্মুখে ইরানি জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা প্রায়ই সীমিত সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।

এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে রোববার ও সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আপাতত ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা থামলেও বিদ্যমান উত্তেজনার বারুদে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এসবের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি ঘটল।

ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি পৌঁছানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধ চলাকালে ইরানি ড্রোনগুলো গুলি করে ধ্বংস করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় তিনি এ ক্ষমা লাভ করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরে দলীয় শত শত সমর্থকও তাকে অভ্যর্থনা জানান।

বিমানবন্দরে পৌঁছে হার্নান্দেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি আরেকটি ফ্লাইটে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী আনা গার্সিয়া ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরার কাছে পরাজিত হন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আগামী ৩ আগস্ট প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়, ফলে দেশে ফেরার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সি হার্নান্দেজ বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজের আবেদন করবেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, নিজের দেশে ফেরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি দিন গুনছিলাম।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে কাটানো সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। আমি এমন অভিজ্ঞতা কারও জন্য কামনা করি না।

হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন তাকে তেগুসিগালপায় গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, ‘প্যান্ডোরা টু’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের একটি অংশ তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।

তবে একই তদন্তে জড়িত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যে খারিজ করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হার্নান্দেজ বলেন, তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। তবে আপাতত সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তাদের পাশে থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর