img

মার্কিন হামলার জবাবে পালটা আক্রমণ ইরানের

প্রকাশিত :  ০৭:৫০, ০৬ জুন ২০২৬

মার্কিন হামলার জবাবে পালটা আক্রমণ ইরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে  হামলা করেছে ইরান।  মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরান সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। খবর আল জাজিরার। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে এবং ইরানের কিছু রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

সেন্টকম জানায়, ইরানের নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং সপ্তমটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

সেন্টকম আরও বলেছে, বর্তমানে মার্কিন সেনা সদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ইরানের এমন দাবি সত্য নয়।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্য গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য আলোচনার চেষ্টা সফল হয়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

একই সঙ্গে উভয় দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ০৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত আকারের সামরিক উত্তেজনা এবং এর রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্কগুলোতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মূলত শুক্রবারের (৫ জুন) সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো রূপ নেয়নি—বিনিয়োগকারীদের এমন মূল্যায়নের পরই বাজারে এই প্রভাব পড়ে।

তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

এছাড়া অন্যান্য তেলের মধ্যে মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য (০.২৫ শতাংশ) বেড়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি ছিল। এই হামলার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী আঘাত হানে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এবং ইরানের তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গুপ্ত নৌবহরের অংশ ‘এমটি ডভিনা’ নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা এই ট্যাংকারটি অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচার করে আসছিল। তবে এই পুরো অভিযানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরান। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম অস্থিরতা চলছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার মাঝে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তবে শনিবারের এই দরপতন প্রমাণ করে যে শুক্রবারের মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিতে পড়ছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র: গালফ নিউজ।