img

ইরানের সতর্কবার্তার পর বৈরুত হামলা স্থগিত করল ইসরাইল

প্রকাশিত :  ০৬:২২, ০২ জুন ২০২৬

ইরানের সতর্কবার্তার পর বৈরুত হামলা স্থগিত করল ইসরাইল

ইরানের কড়া সতর্কবার্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছে ইসরাইল। এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল সোমবার (১ জুন) সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প জানান, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও হয়েছে আলোচনা। তার দাবি, ‘হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা সম্মত হয়েছে যে সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ থাকবে। ইসরাইল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরাইলের ওপর হামলা করবে না।’

এর আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই গত কয়েক দিনে লেবাননে হামলা জোরদার করে ইসরাইল। সোমবার নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন বলে উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে। এতে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ইতোমধ্যে চলমান সংঘাতে লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরই ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহল কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলে, ইসরাইল যদি দক্ষিণ বৈরুতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাংশে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

এক বিবৃতিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তাদের ভাষ্য, ‘যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে উত্তরাঞ্চল ও সামরিক বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা ক্ষতির শিকার না হন।’

দেশটি বলছে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তাতে শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ রাখার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মন্তব্য করেন, লেবাননে ইসরাইলের বাড়তে থাকা হামলা, দেশটিতে সামরিক অভিযান এবং ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। 

তার ভাষ্য, ‘যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’ 

তিনি সতর্ক করেন, কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে সেটিকে পুরো চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘নৌ অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।’ 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য আছে, আর সেই মূল্য পরিশোধ করতেই হয়।’

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আশ্বাস ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৭:২২, ১৫ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৪ জুন) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এখন অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

উপদেষ্টা উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করা জরুরি।’

তিনি জানান, ট্রাম্প ইউরোপীয় অংশীদার এবং কিয়েভের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত।

উশাকভ আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই আবার রাশিয়া সফর করবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে কিছুটা স্থবির হয়ে আছে, কারণ ওয়াশিংটনের মূল মনোযোগ এখন ইরান সংকটের দিকে। রোববারের ফোনালাপে ট্রাম্প ও পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

উশাকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং কঠিন হলেও সফল আলোচনার ফলাফল শিগগিরই প্রকাশ করা যেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।’

তিনি আরও জানান, পুতিন অনানুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে তার ৮০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রুশ আগ্রাসন এবং যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রোববার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে, জেলেনস্কিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ‘আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। আমি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমাদের অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত করেছি।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের কাছে কিছু ভালো ধারণা রয়েছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। ‘

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর