img

বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিল কেপ ভার্দে

প্রকাশিত :  ০৬:৪৩, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৬, ০৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিল কেপ ভার্দে

হেরে যাওয়া দল নিয়েও কি এত আলোচনা হয়? আর যদি জয়ী দলে থাকেন লিওনেল মেসি, তাহলে তো কথাই নেই।

ম্যাচ শেষে কথা হবে মেসির গোল, রেকর্ড নিয়ে, এটাই তো এত দিন হয়ে এসেছে। কিন্তু বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে, তাতে এত দিনের এই ‘রীতিতে’ যেন ছেদই পড়ল!

হারা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সাধারণত এত আলোচনা হয় না। আর প্রতিপক্ষে যদি থাকেন লিওনেল মেসি, তাহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা তার গোল, রেকর্ড কিংবা আর্জেন্টিনার জয়ই।

তবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তাতে বদলে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল কেপ ভার্দের সাহসী ও চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স।

মেসি নন, আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ শেষে আলোচ্য বিষয়—কেপ ভার্দের লড়াই। অবিশ্বাস্য লড়াই করা দলটাকে নিয়ে গর্বিত কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে কেপ ভার্দের পার্থক্য ৬৩ ধাপের। শক্তিমত্তায় দুই দলের বিশাল ব্যবধানের কারণে এই ম্যাচকে কেউ কেউ বিশ্বকাপ নকআউটে সবচেয়ে ম্যাড়মেড়ে ম্যাচ হবে কি না, প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দের দারুণ লড়াইয়ের পর এখন আলোচনা চলছে, এটাই বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ কি না!

কেপ ভার্দে মাঠে দুই দলের পার্থক্য তো ঘুচিয়েছেই, সঙ্গে জাগিয়েছিল জয়ের সম্ভাবনাও। হ্যাঁ জিততে পারেনি, হেরেছে ৩-২ গোলে। তবে এরপরও দলটা যা পেয়েছে, তাই–বা কম কিসে! গর্বে তাই বুক ভরে যাচ্ছে কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তার, ‘আমার মনে হয়, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি এবং আমরা সাহসিকতার সঙ্গে সেটা করেছি। আমরা আমাদের নিজস্ব খেলার ধরনেই খেলেছি, আর ঠিক এ কারণেই পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়েরা যেভাবে খেলেছে, সে জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

বুবিস্তা যোগ করেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আর্জেন্টিনার সামর্থ্যের কারণে আমাদের সাহসী এবং সুসংগঠিত হতে হয়েছিল। কিন্তু দুবার সমতায় ফেরা এবং পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে, আমাদের দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। আমাদের মানসিক শক্তি কতটা দৃঢ়। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যা করেছি, তার জন্য আমি খুবই গর্বিত।’

এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই এই দেশটাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনসংখ্যা বিচারে বিশ্বকাপে খেলা তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশটির পরিচয় বিশ্বকাপে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল কেপ ভার্দে দল।

বুবিস্তার ভাষায়, ‘খেলার চেয়েও বড় বিষয় ছিল বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরা। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলতে চেয়েছি। এই টুর্নামেন্টে আমরা অনভিজ্ঞ, আর অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। কিন্তু এরপরও এ পর্যায়ে পৌঁছানো, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১২০ মিনিট খেলতে পারা, আমরা শুধু দল নিয়ে সুখী আর গর্বই অনুভব করতে পারি।’

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

কানাডার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে শেষ আটে মরক্কো

প্রকাশিত :  ২০:৪৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলার স্বপ্ন দেখছিল কানাডা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো তাদের পথ আটকে দিল। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে মরক্কো। সবার আগে শেষ আটের টিকিট পাওয়া দলও তারাই।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ধরে রেখে খেলতে চেয়েছিল মরক্কো। তবে পাঁচ মিনিটের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কানাডা। 

ম্যাচের ১১ মিনিটে মরক্কোর রক্ষণভাগের ভুল থেকে ম্যাচের সেরা সুযোগ পায় কানাডা। আহমেদের পাস থেকে টানি ওলুওয়াসেইয়ের নিচু শট পা বাড়িয়ে অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

দুই দলই বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব একটা তৈরি হয়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরে ৫ মিনিটের মাথায় লিড নেয় মরক্কো। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমি ফ্রি–কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে বল পাঠান বক্সের কাছাকাছি থাকা আজ্জেদিন উনাহিকে। দারুণ এক মাটি কামড়ানো শটে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার। 

এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। আর অতিরিক্ত সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। এতেই ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। 

খেলাধূলা এর আরও খবর