img

ইতিহাস বদলানোর লড়াইয়ে কানাডার সামনে মরক্কো

প্রকাশিত :  ০৮:৫৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

ইতিহাস বদলানোর লড়াইয়ে কানাডার সামনে মরক্কো

যুক্তরাষ্ট্রের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে, ইতিহাস গড়ার মিশনে মাঠে নামছে কানাডা। অন্যদিকে, দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরক্কো তাদের ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মরিয়া।

আবার মুহূর্তেই আক্রমণের রূপ বদলে দিতে পারে। একজন মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, অন্যজন কানাডার চালিকাশক্তি আলফানসো ডেভিস। শেষ ষোলোতে মরক্কো ও কানাডার লড়াইয়ে এই দুই তারকার দিকেই তাই চোখ থাকবে।

মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা হাকিমি।

ডান প্রান্তে তাঁর দৌড়, ওভারল্যাপিং, নিখুঁত ক্রস এবং রক্ষণে সময়মতো ট্যাকল—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুলব্যাকের অন্যতম সেরা উদাহরণ। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বড় মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তাঁর ‘প্যানেনকা’ পেনাল্টি আজও মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। কানাডার আশার প্রতীক ডেভিসও কম নন।

চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে পায়নি কানাডা। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চেহারা বদলে দেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডার খেলায় অন্য রকম গতি এনে দেয়। শেষ ষোলোর আগে কোচ জেসি মার্শও জানিয়েছেন, ডেভিস শুরু থেকেই খেলতে প্রস্তুত। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে।

হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে। হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন।

তবে ম্যাচটি শুধু হাকিমি-ডেভিসের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মরক্কোর শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ স্কোয়াডে আছেন ইয়াসিন বুনু, সুফিয়ান আমরাবাত, ইসমাইল সাইবারির মতো চাপ সামলানোয় দক্ষ ও পরীক্ষিত ফুটবলাররা। অন্যদিকে কানাডা খেলছে ভয়ডরহীন ফুটবল। তাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাস, হাই প্রেসিং এবং দলগত শৃঙ্খলা এরই মধ্যে অনেককেই মুগ্ধ করেছে। সেরা আটের টিকিট পাওয়ার এই লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার পাল্লা মরক্কোর দিকে কিছুটা ভারী। কিন্তু কানাডাও দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ইতিহাস গড়তে এসেছে। আর সেই ইতিহাস লেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারেন হাকিমি। মুদ্রার অন্য পিঠে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ডেভিস। হিউস্টনে শেষ পর্যন্ত কে ম্যাচ বদলে দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার!

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

কানাডার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে শেষ আটে মরক্কো

প্রকাশিত :  ২০:৪৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলার স্বপ্ন দেখছিল কানাডা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো তাদের পথ আটকে দিল। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে মরক্কো। সবার আগে শেষ আটের টিকিট পাওয়া দলও তারাই।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ধরে রেখে খেলতে চেয়েছিল মরক্কো। তবে পাঁচ মিনিটের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কানাডা। 

ম্যাচের ১১ মিনিটে মরক্কোর রক্ষণভাগের ভুল থেকে ম্যাচের সেরা সুযোগ পায় কানাডা। আহমেদের পাস থেকে টানি ওলুওয়াসেইয়ের নিচু শট পা বাড়িয়ে অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

দুই দলই বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব একটা তৈরি হয়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরে ৫ মিনিটের মাথায় লিড নেয় মরক্কো। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমি ফ্রি–কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে বল পাঠান বক্সের কাছাকাছি থাকা আজ্জেদিন উনাহিকে। দারুণ এক মাটি কামড়ানো শটে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার। 

এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। আর অতিরিক্ত সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। এতেই ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। 

খেলাধূলা এর আরও খবর