img

৪০ বছর পর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারল মেক্সিকো

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ০১ জুলাই ২০২৬

৪০ বছর পর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারল মেক্সিকো

ঝড়-বৃষ্টির বাগড়ার কারণে খেলা শুরু হলো পাক্কা এক ঘণ্টা পর। কিন্তু ফল নির্ধারণ করতে মেক্সিকো সময় নিল মোটে ৩১ মিনিট। ইকুয়েডরকে বিদায় করে তাতেই শেষ ষোলোর জায়গাও পাঁকা হয়ে গেছে স্বাগতিকদের।

এর মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর নকআউট পর্বে ম্যাচ জিতল মেক্সিকো। ১৯৮৬ সালে শেষ ষোলোতে বুলগেরিয়াকে হারানোর পর নকআউট পর্বে টানা সাতবার হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল মেক্সিকোর। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রতিটি ম্যাচেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। তবে এবার ভুল করেনি স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপের শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে আজতেকায় শুরু থেকেই দাপট দেখায় স্বাগতিক মেক্সিকো। প্রথমার্ধেই হুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল হিমেনেজের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাভিয়ের আগুইরের দল। বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখে সহজ জয় নিশ্চিত করে তারা।

এই জয়ে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, মেক্সিকো সিটিতেই। আজ রাত দশটায় কঙ্গোর বাধা সামলাবে ইংলিশরা।

মেক্সিকো সিটিতে বজ্রঝড়ের কারণে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের কিক-অফ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। তবে খেলা শুরু হতেই ঝড় তোলে স্বাগতিকরা। প্রথম ১০ মিনিটেই চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়া একবার পোস্টে বল মারলেও পুরো ম্যাচজুড়ে মেক্সিকোর গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি তারা।

১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কোনো ম্যাচে এতটা আক্রমণাত্মক সূচনা করেনি মেক্সিকো। তারই পুরস্কার আসে দ্রুত। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া উইঙ্গার হুলিয়ান কুইনোনেস বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল।

কিছুক্ষণ পরই গোলদাতার ভূমিকায় থেকে সতীর্থকে দিয়ে গোল করান কুইনোনেস। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার হোয়েল অরদোনিয়েসের ভুলের সুযোগ নিয়ে রাউল হিমেনেজ দারুণ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বিরতির পর ইকুয়েডর কিছুটা ভালো খেললেও গনসালো প্লাতার বাইরে মারা শটই ছিল তাদের সেরা সুযোগ। ফলে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। হতাশার ম্যাচের শেষটাও ভালো হয়নি ইকুয়েডরের। 

যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের মুখ চেপে ধরে কথা বলায় ভিএআর পর্যালোচনার পর লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। টুর্নামেন্টে এ ধরনের ঘটনায় লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন তিনি। ম্যাচের ফলও ইকুয়েডরের পক্ষে আসেনি।


খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো হারেনি নরওয়ে, ইতিহাস কি বদলাবে এবার?

প্রকাশিত :  ০৮:১৪, ০১ জুলাই ২০২৬

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার এক ভিন্ন পরীক্ষা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে— যে দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের লড়াইয়ে তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম সবকিছুই ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।

এ পর্যন্ত দুই দল চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, আর বাকি দুটি ড্র হয়েছে। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে।

দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। ওই ম্যাচে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিয়েতিল রেকদাল। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচেও দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে।

অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের বিপক্ষে থাকলেও বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাতিয়াস কুনহা, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারকে ঘিরে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। জাপানের বিপক্ষে জয়ও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আর্লিং হলান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নরওয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হলান্ড। ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি এবারও ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখতে চায়।

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের জয়হীনতার রেকর্ড ভেঙে ব্রাজিল কি শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে, নাকি নরওয়ে আবারও চমক দেখিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক আধিপত্য বজায় রাখে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই লড়াইয়ের দিকেই। সব মিলিয়ে ৫ জুলাইয়ের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।