img

জঘন্য বিশ্বকাপ, চরম অবিচার—মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরান অধিনায়ক

প্রকাশিত :  ১৩:৩১, ২৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ জুন ২০২৬

জঘন্য বিশ্বকাপ, চরম অবিচার—মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরান অধিনায়ক

ইরান অধিনায়ক মেহদী তারেমি কোন রাখঢাক না রেখেই ক্ষোভ ঝাড়লেন। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে নিজেদের ভোগান্তির জন্য তিনি সরাসরি ফিফা ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। ইরানের সঙ্গে বিশ্বকাপে ‘অন্যায়’ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারেমি।

তারেমির ক্ষোভের কারণটা কারও অজানা থাকার কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠের বাইরে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ইরানকে। তাদের মূল অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বদলে নিয়ে যাওয়া হয় মেক্সিকোতে।

এরপর কথা ছিল, প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং ম্যাচের পরদিন মেক্সিকো ফিরবে। পরে ফিফা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে ইরানকে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনার পর ফিফা জানায়, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে তাদের আবার চলে যেতে হবে। ইরান দলের অনেক স্টাফ পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলে যাওয়া ইরান আজ মিসরের সঙ্গে জিতলেই ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত করে ফেলত। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ভাঙে ইরানের স্বপ্ন! এরপরই মুখ খোলেন তারেমি।

নিজের ক্ষোভ তিনি ঝেড়েছেন এভাবে, ‘এটা জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, “এটি তো কেবল শুরু...।” অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তাঁরা ভিসা পাননি।’

তারেমি আরও বলেন, ‘আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে অধিনায়ক তারেমি বলেছেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’

ইরান বিশ্বকাপে থাকুক, এটি আদৌ চাওয়া হচ্ছে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে...তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায়ায় ফিরে যেতে হবে কেন?’

মিসরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

মুসলিম ফুটবলারদের সম্মানে ফিফার নতুন নিয়ম

প্রকাশিত :  ১৩:৫১, ২৭ জুন ২০২৬

ফুটবলে অ্যালকোহল স্পন্সরশিপ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অ্যালকোহল ব্র্যান্ড-সম্পৃক্ত ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)। এই পরিবর্তন আসলে আনা হয়েছে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার সময়।

এবারের বিশ্বকাপে অনলাইনে ভোট দিয়ে সমর্থকরাই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচন করছেন। এই পুরস্কার দেওয়াতে ফিফাকে সহায়তা করছে মাইকেল আলট্রা নামে একটি ব্র্যান্ড।

সাধারণত, ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় পুরস্কারজয়ী ফুটবলার ট্রফি হাতে স্পন্সরের নামের ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাদের ট্রফিতেও থাকে স্পন্সরের নাম। পরে সেই ছবি ফিফা নিজেদের সমাজমাধ্যমে আপলোড করে।

এবার একটি ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে- এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে। এর পেছনে রয়েছে একটি ধর্মীয় কারণ। এ জন্যই ফিফা মূলত মুসলিম প্লেয়ারদের জন্য এই পরিবর্তন করেছে। যেহেতু এই ব্র্যান্ড একটি মাদক ব্র্যান্ড এবং ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই এই পরিবর্তন ফিফার। 

মুসলিম প্রধান দেশে মদপান নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। তাই কোনও মুসলিম ফুটবলার যদি ম্যাচের সেরা হন, তার পুরস্কারের ব্যাকড্রপ থেকে ওই কোম্পানির নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই এই নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা, ইসমাইল সাইবাড়িদের উপর। মুসলিম ফুটবলরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানির নাম দেখানোর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু লেখা Superior player of the match ও তার সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের লোগো রাখা হচ্ছে। ট্রফির নকশা একই থাকছে। সরে যাচ্ছে মদ কোম্পানির নাম।

২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর এই পুরস্কারে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগোতে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি কোনও মদ বা জুয়া সংস্থার হয়ে কোনও বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন না। এমনকি ঘরোয়া ফুটবলেও এখন অনেক নিয়ম বদল হয়েছে। 

এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পেনের বদলে নন অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হয়। তবে ফিফার এই নিয়ম ইতিমধ্যেই প্রশংসা পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।