img

হ্যারি কেইনের কাঁধে ভর করে আছে ইংল‍্যান্ডের স্বপ্ন

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১০, ০২ জুলাই ২০২৬

হ্যারি কেইনের কাঁধে ভর করে আছে ইংল‍্যান্ডের স্বপ্ন

ইংল্যান্ড কঙ্গো ম্যাচে আবারও ঝিলিক দেখালেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের ২–১ গোলের জয়ের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি এডওয়ার্ড কেইন। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২৮ জুলাই, ইংল্যান্ডের লন্ডনের ওয়ালথামস্টো এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল তার জীবনের কেন্দ্র ছিল। তার পথটা খুব মসৃণ ছিল না। শৈশবে তাকে নিয়ে বড় বড় ভবিষ্যদ্বাণী হয়নি। স্থানীয় পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন টটেনহ্যামের একাডেমিতে।

পেশাদার ফুটবলের শুরুটাও সহজ হয়নি। ধারে খেলতে হয়েছে বিভিন্ন ক্লাবে। মনে করা হতো হয়তো এখানেই থেমে যাবে তার গল্প। তিনি থামেননি। টটেনহ্যামে ফিরে এসে ধীরে ধীরে নিজেকে বদলে ফেললেন। গোল করা শুরু করলেন। শুধু গোল নয় খেলা পড়া, আক্রমণ তৈরি করা, দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকারদের একজন। তারপর এল জাতীয় দলের অধ্যায়। ইংল্যান্ডের জার্সিতে হ্যারি কেইন শুধু  গোলদাতা নন, তিনি দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতীকও।

১৯৬৬–এর পর ইংল্যান্ডের প্রতিটি প্রজন্ম বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়েছে নতুন আশায়। সেই প্রত্যাশার বড় অংশ এসে পড়েছে কেইনের কাঁধে। বিশ্বকাপ ও ইউরোর বড় মঞ্চে তিনি বহুবার গোল করেছেন, দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। সমালোচনাও কম শুনতে হয়নি। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল তার সবচেয়ে সুন্দর উত্তরগুলোর একটি। ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই কঙ্গো এগিয়ে যায় ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে। এরপর দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডকে আটকে রাখে কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণ আর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। একের পর এক সেভ করে তিনি ম্যাচকে বাঁচিয়ে রাখছিলেন। অনেকের চোখে এমপাসিও ম্যাচসেরার দাবিদার ছিলেন। 

শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন কেইন। ৭৫ মিনিটে হেড থেকে সমতা ফেরান। ৮৬ মিনিটে করেন জয়সূচক গোল। এক মুহূর্তে বদলে যায় পুরো রাত। ম্যাচসেরার সম্মান যায় হ্যারি কেইনের কাছেই। ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস আর নেতৃত্বের ছাপ। 

তিনি বলেছিলেন, সত্যি বলতে দারুণ লাগছে। কী অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ! প্রথমেই বলতে হবে, আমরা খুব কঠিন আর সংগঠিত একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। প্রথম কুলিং বিরতির পর আমরা নিজেদের খেলার মান আরও বাড়িয়েছি। তাদের গোলকিপার অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছে। আমরা জানতাম চেষ্টা চালিয়ে গেলে মুহূর্ত আসবে। 

কেইনের কথা, আমাদের দলে সবসময় কেউ না কেউ নায়ক হয়ে ওঠে। এ ধরনের ম্যাচে ধৈর্য ধরে থাকতে হয়। আগের কয়েকটি ম্যাচও প্রায় একই রকম ছিল। চাপ বেশি থাকে। আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হয়। আক্রমণের দিক থেকে এটা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমরা টুর্নামেন্টের এমন জায়গায় আছি, যেখানে শুধু সুন্দর ফুটবল নয়, কঠিন লড়াই করেও ম্যাচ জিততে হয়। আমি ছেলেদের বলেছি ম্যাচটা উপভোগ করতে। অনেক সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জেতার আনন্দটা ঠিকভাবে উদযাপন করে না। অন্য সব দেশের মতো আমরাও পরের পর্বে গেছি এটা উপভোগ করা উচিত। পুরো ৯০ মিনিটে আমাদের সামলানো কঠিন ছিল। 

পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গ্যারি লিনেকারের পর প্রথম ইংল্যান্ড ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন হ্যারি কেইন। ইউরো ২০২০ থেকে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তার গোল এখন ১০টি। বর্তমান সময়ে ইউরোপের অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি। তার কাছাকাছি আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গোল ৭টি।ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এই মৌসুমে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ৭২। 

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও ম্যাচ শেষে কেইনের প্রশংসা করে বলেন, ‘বড় স্ট্রাইকাররা সবসময় পুরো ম্যাচে দৃশ্যমান থাকে না, কিন্তু সঠিক মুহূর্তে আঘাত করতে জানে। কেইনের গোলের ক্ষুধা একজন শিকারির মতো এবং কঠিন সময়ে দলকে বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে দেয়।’

ম্যাচের পর সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন বলেন, ‘জয় নিশ্চিত হওয়ার পর দলের সবাইকে এক জায়গায় ডেকে কেইন বলেছিলেন এই জয় টুর্নামেন্ট জেতায়নি, কিন্তু এমন মুহূর্ত উপভোগ করাও জরুরি। তার বিশ্বাস বড় দলগুলো অনেক সময় উদযাপন করতে ভুলে যায়, অথচ এই পথচলার আনন্দও মনে রাখা দরকার।’


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

জকিগঞ্জে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে তর্কের জেরে চাচাতো ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৯:৩১, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৫, ০২ জুলাই ২০২৬

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলম আহমদ (২৮) লামারগ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিুযক্ত যুবককেও আটক করেছে। তার নাম পারভেজ আহমদ (৩২)। সে একই গ্রামের মোস্তাকিন আলীর ছেলে এবং নিহতের আপন চাচাতো ভাই।

জকিগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার শেষ সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে পারভেজ আহমদ ও আলম আহমদের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ ঘর থেকে ছুরি এনে আলমকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আলম আহমদকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পারভেজ আহমদকে আটক করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘাতক যুবককে আটক করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।