ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দুই সহস্রাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় বিজ্ঞান মেলা
লন্ডন, ২৯ আগস্ট ২০২৬: ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দুই সহস্রাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান মেলা। লন্ডন মুসলিম সেন্টারের দুটি হলজুড়ে আয়োজিত এ মেলায় শিশুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। নবীন-প্রবীণের অংশগ্রহণে সায়েন্স ফেয়ারটি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
মূলত বিজ্ঞান বিষয়ে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়। তরুণ প্রজন্মকে এ কথাও বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, ধর্ম ও বিজ্ঞান পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একটি অপরটির পরিপূরক।
২৯ আগস্ট শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লন্ডন মুসলিম সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও প্রথম তলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন সম্পর্কে ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদ বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানসম্পর্কিত বিষয়ে লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তোলা। আগামীতে তারা যেন বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও প্রকৌশলী হয়ে উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মেলা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা শুধু মেলা ঘুরে দেখেননি, বরং বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবেও অংশ নিয়েছেন। আয়োজনটি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি ভলান্টিয়ারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেলার কো-অর্ডিনেটর ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইয়ুথ এনগেজমেন্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ স্টল, লাইভ এক্সপেরিমেন্ট এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতবিষয়ক নানা কার্যক্রম। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে অভিভাবকেরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মেলায় আসেন।
তিনি বলেন, পুরো আয়োজন ছিল আনন্দঘন। শিশু-কিশোরেরা আনন্দের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছে। লন্ডন মুসলিম সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি প্ল্যানেটারিয়াম স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে প্রতি ১০ মিনিট পরপর ভিডিও প্রদর্শন করা হয় । এটি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
মেলা পরিচালনায় অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মুসলিম পেশাজীবীরা। এটি শুধু একটি শিক্ষামূলক মেলা ছিল না; বরং ছিল কৌতূহল, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণে শিক্ষার এক সুন্দর উৎসব।



















