img

ইরানের সেনাবাহিনী গুড়িয়ে দেওয়ার দাবি নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সেনাবাহিনী গুড়িয়ে দেওয়ার দাবি নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পরমাণু স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশীদারত্বের প্রশংসাও করেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সত্যের জন্য যুদ্ধ’ চলছে। কাতার ও তুরস্কসহ কয়েকটি বিদেশি দেশের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে নিয়ে ‘মিথ্যা ছড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের’ অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করা ‘খুব কঠিন’ ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিকে নিজের নেওয়া ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘আমি যদি এটি না করতাম, তাহলে আমরা সবাই মারা যেতাম।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল নিজেদের রক্ষা করার পাশাপাশি ওই দেশগুলোকেও রক্ষা করছে—এটি দাবি করার মধ্যে ‘চরম পরিহাস’ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব দেশের অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কারণ ইসরাইল ইরানের পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করেছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার আগে নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ব্যাপকভাবে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতদিনের রূপরেখা দিয়েছে ইরান

প্রকাশিত :  ১৪:৩১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের অবসান এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অংশ হিসেবে আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম দুটিকে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাতদিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া ও আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার জাপানের বার্তা সংস্থা ‘কিয়োদো’ প্রথম এমন তথ্য প্রকাশ করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটির দাবি তখন ইরানি গণমাধ্যম অস্বীকার করে। একইদিন নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি।

নিউইয়র্ক টাইমস আরাঘচির রবাত দিয়ে জানিয়েছে, সবশেষ পরিকল্পনায় সাতদিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত আছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, শর্ত পূরণ হলে সপ্তমদিনের মাথায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। আরাঘচি বলেছেন, পরিকল্পনাটির বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছেন। চীনও এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও আছে।

যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ খুলে দিতে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পুনরায় সংঘাতে জড়ায়।