img

স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ: জ্বালানি মন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৪:০৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ: জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানান তিনি।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশে জ্বালানি সংগ্রহে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি কেনার পরও তা দেশে আনা সম্ভব না হওয়া এবং একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার ঘটনা সরবরাহে বিলম্বের অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, এসব জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের লাইন স্বাভাবিক হয়েছে এবং জ্বালানি দেশে আসছে। সরবরাহের শিডিউলও ঠিক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি করেনি। জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে, এমনকি বেশি দাম দিয়েও গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে ভোট দিয়েছিল। তবে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি ও দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিতে উদ্যোগ নেওয়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা দলগতভাবে কাজ করেছেন।

জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদানসহ সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। আর গেটের বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের নিয়মিত টিকা ও চলমান বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইনের টিকা দিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন।

কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়।

তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে কেন্দ্রে এসেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার বাবা ছোটোবেলায় আমাকেও এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে আমার বড় ছেলেকেও আমি এখান থেকে টিকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শুনিনি এটি অন্য কারও জমি। আমরা চাই, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা পাক। সরকার দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে সেবা নিশ্চিত করুক।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।