img

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘প্রলয়ংকরী যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘প্রলয়ংকরী যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরাগচি বলেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় থাকবে। পরিস্থিতি প্রলয়ংকরী যুদ্ধে গড়ালেও ইরান পিছু হটবে না। একই সঙ্গে কূটনীতির জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় ইরান। এতে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।

বিনিময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশটির জব্দ করা সম্পদ ও অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল বিক্রির সুযোগ চেয়েছে। আরাগচি বলেন, এসব শর্ত নতুন নয়। জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতাতেও এসব বিষয় ছিল।

তবে জুনের ওই সমঝোতা কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় ভেঙে যায়। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগের সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগও করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আরাগচি বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হয়নি।

আরাগচি বলেন, ইরান কূটনীতির কোনো সুযোগ নষ্ট করতে চায় না। শান্তির জন্য কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নেই। তাদের কাছে জাতীয় স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, কয়েকটি কারণে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার মতে, ইরানের জব্দ করা বিপুল অর্থ ছাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না।

ওয়াল্টজ আরও বলেন, ইরান অতীতের সমঝোতা লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়েছে। তাই দেশটির সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা কমেছে।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তিনি ইরানকে ধ্বংস করার পথ বেছে নেবেন নাকি চুক্তিতে যাবেন, তা এখনো বিবেচনা করছেন। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ০৭:১২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা স্পষ্ট নয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এএনআইকে বলেন, ‘জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে রুশ পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংবলিত ওই চালান রাশিয়ার একটি কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষভাবে সুরক্ষিত কনটেইনারে করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

সূত্র: এএনআই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর