img

সিএনএন-এর সাংবাদিককে ট্রাম্প, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়’

প্রকাশিত :  ০৯:৫০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএন-এর সাংবাদিককে ট্রাম্প, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে দেখে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়।’

সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এ গণমাধ্যমের কর্মীরা কার্যত হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পারবেন না। 

সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে জাতিসংঘে প্রবেশের সময় ট্রাম্প কেইটলান কলিন্সকে বলেন, সিএনএন তার সংবাদ সংগ্রহ করতে আসায় তিনি অবাক হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি যে সিএনএন এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ (কভার) করতে এসেছে। আপনাদের এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করার কথা না। আপনারাই তো বলেছিলেন যে আমার সংবাদ সংগ্রহ করবেন না।’

তবে সম্প্রচারে ফিরে কলিন্স প্রেসিডেন্টের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে জানান, তারা প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। 

হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএন-কে নিষিদ্ধ করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, জাতিসংঘে নিয়মিত ক্রেডেনশিয়ালড মিডিয়া হিসেবে তাদের প্রবেশের অনুমতি ছিল।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের এই নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে সোমবার আদালতে যৌথ মামলা দায়ের করেছে তিনটি সংবাদমাধ্যম। বুধবার বিকেলে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। 

ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারকে ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। আদালতে হোয়াইট হাউসের বিপক্ষে রায় গেলে গণমাধ্যমগুলোকে পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও, মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলিকে ‘অপেক্ষাকৃত কম নিরপেক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সুতরাং আপনি কখনোই বলতে পারবেন না (ভুয়া তথ্য)। আমি মনে করি ভুয়া খবর মুছে ফেলার অধিকার আমাদের আছে।’

এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো সংহতি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের জায়গায় অন্য কোনো নেটওয়ার্ককে স্থলাভিষিক্ত না করে সব ধরনের ‘পুল’ সংবাদ সংগ্রহ স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলো। এর পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ সংস্থা প্রেসিডেন্টের ইভেন্টের ছবি প্রকাশ না করার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে।

সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ব্লেয়ার সেন্টার ফর টেলিভিশন অ্যান্ড পপুলার কালচারের পরিচালক রবার্ট থম্পসনের মতে, সর্বদা স্পটলাইট-প্রেমী প্রেসিডেন্টের জন্য এই সংবাদ সংগ্রহহীন অবস্থা ক্ষতিকর হওয়ায় নিষেধাজ্ঞাটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের এমন অবলীলায় করা বিরূপ মন্তব্যগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এই বিশ্লেষক। 

সূত্র: এপি



আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ৩ ঘণ্টার বৈঠক: হরমুজ প্রণালি সচলে যে শর্ত দিল তেহরান

প্রকাশিত :  ১৪:১৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারীরা পুরো সময় ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা বিনিময় করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে উইটকফ বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৈঠকের ফাঁকে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। তারা (মধ্যস্থতাকারী) দিনজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।’

উইটকফ আরও লিখেছেন, ‘তারা সফলভাবে এক দফা আলোচনা শেষ করেছেন। আমরা আশা করি, এটি গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আরও সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন। জাতিসংঘে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। খুব ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এতে চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানিয়েছেন, ট্রাম্প বৈঠকে ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উইটকফ ও কুশনার প্রতিনিধিত্ব করেন।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বৈঠকটি হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বার্তা ও শর্তগুলো জানা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া শর্তের মধ্যে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

এই বৈঠকের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র। তিনি জানিয়েছিলেন, কূটনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে থাকা প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা আছে। আলোচনায় ফেরার জন্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন একটি স্বর্ণালী সুযোগ।

রয়টার্সকে ওই সূত্র জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিস্তারিত নানা দিক নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে ইরান সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর