img

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

প্রকাশিত :  ০৬:৫৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

ফিলিপাইনের দক্ষিণ কোতাবাতো প্রদেশের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর)  বানগা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে স্কুলে গুলির খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।

বানগা শহরের মেয়র আলবার্ট পালেনসিয়া রয়টার্সকে জানান, হামলাকারী গুলি চালানোর আগে বন্ধুদের বলেছিল, দুপুরের খাবারের পর সে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তবে বন্ধুরা তার কথা গুরুত্ব দেয়নি।

মেয়র জানান, দুপুরের খাবারের পর ওই শিক্ষার্থী হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে।

দক্ষিণ কোতাবাতোর গভর্নর রেইনালদো তামায়ো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলতি বছরের জুনের পর এটি ফিলিপাইনের কোনো স্কুলে তৃতীয় প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। এর আগে আগস্টে জাম্বোয়াঙ্গায় এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে আরেক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করে।

জুনে টাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দুই সহপাঠীর গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়।

পরপর এসব হামলার পর চলতি মাসের শুরুতে স্কুলের নিরাপত্তা জোরদারে দেশজুড়ে বিশেষ মহড়া চালানো হয়।

দক্ষিণ কোতাবাতোর গভর্নর আগ্নেয়াস্ত্র  শিশু-কিশোরদের নাগালের বাইরে রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: মিন্ট 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধ নয়, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশিত :  ০৯:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতায় মস্কো প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলুর

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের কিছু নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সংঘাত এবং রাশিয়ার কথিত হুমকিকে নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।

পুতিন বলেন, ‘আমি আবারও বলতে চাই, ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। এর পক্ষে কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা সহযোগিতা করতে এবং ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে প্রস্তুত।’

বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেন তিনি। পুতিনের দাবি, এসব মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারা সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং এর নিয়ম মেনে চলার কথা বলে। অথচ তারাই বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রয়োজনে রাশিয়া এর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিতে বসবাস করি। তা না হলে আমরাও জবাব দিতে বাধ্য হব।’

বৈঠকে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন পুতিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন করাই হবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ী—স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা—শক্তিশালী করাই হবে কর্মসূচির ‘পরম অগ্রাধিকার’। তার দাবি, এই সক্ষমতা রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

পুতিন জানান, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর ৯২ শতাংশ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।

এ ছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, চালকবিহীন ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন পুতিন। তার মতে, পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেনা ও অস্ত্রের ওপর তাৎক্ষণিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বার্তা দিলেও অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর