img

মার্কিন রাস্তা থেকে ভারতীয়দের সরে যেতে বললেন ট্রাম্প!

প্রকাশিত :  ১০:৫৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন রাস্তা থেকে ভারতীয়দের সরে যেতে বললেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি প্রচারণামূলক পোস্টারে অভিবাসীদের ‘নিজেদের দেশে ফিরে যান, নতুবা পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন’—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর আদলে তৈরি ওই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পোস্টারটিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির সময়ে সামনে এসেছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত পোস্টারটির সমর্থনে বার্তা দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে, দেশে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নিয়ে প্রবেশকারীদের প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এফবিআই কর্তৃক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফ্রাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠাক অ্যালেক নোলাও এটিকে সিং পদবিধারী মানুষদের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবনের ঐতিহাসিক কথা উল্লেখ করে সরকারের এ ধরনের পোস্টারকে বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই উদ্যোগটি মূলত তাদের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির প্রচারণার অংশ, যার অধীনে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা খরচ এবং অতিরিক্ত দুই হাজার ছয়শত ডলার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস নাউ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কখন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে, জানালেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৪:৩১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ফের হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না—তা নির্ধারিত হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে, কারণ ইরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।’

যদিও এর আগে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে এই যুদ্ধ।

গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি

এদিকে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে ভূগর্ভস্থ দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে থাকা শক্তিশালী স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সেখানে ‘সামান্য তৎপরতা’ দেখা যাচ্ছে এবং ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, বুধবার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজের কাছে তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেয়। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল আরো ব্যাহত হয়েছে।

একই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রের দাবি, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণে আরো প্রভাব বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদির চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

লোহিত সাগরও বাড়িয়েছে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে গত কয়েক দিনে সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। ইয়েমেনের কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে তারা।

অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ও তাদের মিত্ররা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণে ধুবাব এলাকায় সরে যাচ্ছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও এর বিপরীতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর