ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
প্রকাশিত :
০৫:৫৭, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্যাংকারটির কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সানান্দাজ শহরের গভর্নর জানান, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হতাহতদের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং তা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার ও বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল সড়কব্যবস্থা, পুরোনো যানবাহন এবং অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে দেশটিতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
২০১৮ সালেও সানান্দাজের কাছে যাত্রী তোলার জন্য থেমে থাকা একটি বাসে জ্বালানি ট্যাংকারের ধাক্কায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। দেশটির সড়কের দুরবস্থা ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের মে মাসে তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল ট্রিবিউন’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ আহত হন।
বইয়ের পাতা, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল কিংবা গুগল ম্যাপে বিশ্ব মানচিত্র দেখলে পৃথিবীকে আমরা যেভাবে দেখি, বাস্তবে তা তেমন নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে যে আয়তনে দেখানো হয়, প্রকৃতপক্ষে এর আয়তন তার চেয়ে অনেক বেশি।
সাড়ে চারশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বৈশ্বিক ভৌগোলিক ভুল ও ঐতিহাসিক বিকৃতি সংশোধনে এবার পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘ। বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়েছে।
‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ বা ‘মানচিত্র সংশোধন করো’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪ ভোটে পাস হয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং বাহামাস প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এর লক্ষ্য হলো, প্রচলিত মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের আয়তন নিয়ে যে ভারসাম্যহীন উপস্থাপন রয়েছে, তা সংশোধন করে একটি ন্যায্য এবং সঠিক বিশ্ব মানচিত্র নিশ্চিত করা। যদিও জাতিসংঘের এই প্রস্তাব কোনো দেশের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর ফলে বিশ্বজুড়ে মানচিত্র প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ব্যবহৃত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানচিত্রগুলোর একটি হলো ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রকার জেরার্ডাস মারকেটরের তৈরি ‘মারকেটর প্রজেকশন’। সমুদ্রপথে নেভিগেশনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও পুরো পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে দেখানোর কারণে এতে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনে বড় ধরনের বিকৃতি দেখা যায়। এতে বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো তুলনামূলক ছোট এবং মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলো অনেক বড় দেখায়। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি মনে হয়। বিপরীতে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার মতো অঞ্চল ছোট দেখায়।
উদাহরণ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের প্রকৃত আয়তন মাত্র ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও সাধারণ মানচিত্রে এটিকে প্রায় ৩০৪ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আফ্রিকার সমান দেখায়। অথচ আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
এই বিকৃতি দূর করতে ২০১৮ সালে এক দল মানচিত্রবিদ ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন একটি মানচিত্র প্রজেকশন তৈরি করেন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক অনুপাত অনেক বেশি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়। নতুন এই মানচিত্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।
মানচিত্র বদলে প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘে ভোটাভুটির আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেন, ‘একটি ন্যায্য পৃথিবী শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্রের মাধ্যমে। মানচিত্র কখনোই নিরপেক্ষ নয়, এটি মানুষের মানসিকতা তৈরি করে।’
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক জাতিসংঘের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানচিত্র পরিবর্তনের এই লড়াই কেবল ভূগোলের নয়; এটি মনস্তাত্ত্বিক আভিজাত্য ভাঙার লড়াই। কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিওকো মুয়েন্দো উল্লেখ করেন, মানচিত্র শুধু পর্যটকদের গাইড নয়, এটি রাজনীতি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। নতুন মানচিত্র বিশ্বদরবারে আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশাল জনসংখ্যা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি