img

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০

নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে।

৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।

ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। যারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। অপরদিকে চীনে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই পানির শক্তি এত বেশি ছিল যে বন্যায় নিহত মানুষের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে এসেছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় মরদেহগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল নেপাল। তাই আপাতত ডিএনএ সংগ্রহ করে সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে তুলে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র: এএফপি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৮, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতার চাঁদনী চক এলাকার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আচমকা হামলা চালান বিজেপি সমর্থিত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত একদল বিক্ষোভকারী ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা প্রবেশদ্বারের দুটি থামে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন।

গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২১ আগস্ট এ নিয়ে প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। 

শিরোনামটির তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আনন্দবাজার পত্রিকাকে ওই শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গেরুয়া বসন পরে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর পরেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। এদিন দুপুরে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নামে কয়েকজন বি‌ক্ষোভকারী প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে হোয়াইট হাউজ নামে খ্যাত আনন্দবাজারের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভবনের মূল ফটকের উপরে গেরুয়া একটি উত্তরীয় ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ-অবস্থানে বসেন। 

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতেই পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও করতে পারে। কিন্তু গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধরে না-নিলে পরে বড় প্রতিবাদ হবে।’

কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মূল ফটকের পাশের দুই থামে গেরুয়া রঙ লাগিয়ে ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, দলের তরফে এমন কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি। এর আগেও যাদবপুরে তাণ্ডবের পর এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয় বলে দায় এড়িয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া দেয়ালটি আবারও সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ছবিটির ক্যাপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে লেখেন— ‘উচ্চ যেথা শির’। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর