img

নেপালে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৭ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৫:৪২, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

নেপালে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৭ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর ৯৭ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ওই নারীকে নিরাপদে বের করে আনেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম গুনা মায়া বোহারা। তিনি যে বৃদ্ধনিবাসে থাকতেন, সেটি বন্যার পানির তোড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেখান থেকেই তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে যান তার প্রপৌত্র দীপক বোহারা।

বিবিসি নেপালিকে দীপক বলেন, উদ্ধারকারীরা যখন তার প্রিয়জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন, তখন তাকে দেখে মনে হচ্ছিল—যেন যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফেরা এক ‘যোদ্ধা’।

প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। বিবিসির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খননযন্ত্রের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গুনা মায়া বোহারা‌কে নিরাপদে বের করে আনা হচ্ছে। ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে পুরো এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর এই উদ্ধার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উপত্যকাগুলোতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞানী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, কোনো হিমবাহ বা বিপুল পরিমাণ বরফ-পাথরের স্তর ধসে পড়ার ফলে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের উভয় পাশে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক, অস্থিতিশীল ভূমি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে গুনা মায়া বোহারা‌কে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা দুর্যোগের মাঝে আশার বিরল বার্তা হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কঙ্গোতে এক সপ্তাহে পুড়ল ৭০০ ঘর, এবার স্কুলে আগুনে নিহত ২৯ শিশু

প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে চিমপুন্ডা এলাকার একটি বসতিতে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের উজামা ও ফুরাহা স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলিত ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হাসপাতাল ও কর্মকর্তাদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ পরিচালিত রেডিও ওকাপি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে চিমপুন্ডা এলাকার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ২০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৯-এ পৌঁছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে থাকার তথ্য জানিয়েছে এএফসি/এম২৩ কর্তৃপক্ষ; নিহতদের পরিচয় ও মোট সংখ্যার বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে বলে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে জানিয়েছেন। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া বহু শিক্ষার্থীকে বুকাভুর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন মারা গেছে বলে চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন।

আগুন লাগার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের পথ থেকে বের হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করলে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যায়। কেউ কেউ নিরাপদ পথ না পেয়ে বিপজ্জনকভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এতে অনেকে পদদলিত হন এবং ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে জ্ঞান হারান। রেডিও ওকাপির তথ্যেও কিছু শিক্ষার্থীর বাঁচার চেষ্টার সময় হুড়োহুড়িতে প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে।

এএফসি/এম২৩ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজন কাদুতু জেনারেল হাসপাতাল ও বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও প্রাণহানি হতে পারে।

স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীরা জানান, আগুনের পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেখানে নেওয়া হয়। তাদের অনেকেরই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, অন্যদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। আগুন নেভানোর পরও ধ্বংসস্তূপ ও পুড়ে যাওয়া টিনের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের কাজ চলছিল।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুকাভুতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে বুকাভুতে অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রেডিও ওকাপির তথ্যমতে, এক সপ্তাহে শহরটিতে প্রায় ৭০০টি ঘর আগুনে পুড়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের আগুনেই অন্তত ৭০টি ঘর ধ্বংস হয়। এর এক দিন পরও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

বুকাভু বর্তমানে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের শুরুতে পূর্ব ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এএফসি/এম২৩ বর্তমানে বুকাভুতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করেছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর