প্রকাশিত :
০৫:৫২, ২৪ আগষ্ট ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৫, ২৪ আগষ্ট ২০২৬
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। ভারী বৃষ্টির পর দার-এস-সালাম এলাকার একটি বড় বর্জ্য স্তূপ ধসে আশপাশের ঘরবাড়ি চাপা পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান চলছে।
প্রবল বর্ষণের জেরে গত কাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রাজধানী কোনাক্রিতে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। গিনির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোনাক্রির গিবেসেয়া এলাকায় অবস্থিত আবর্জনার এ স্তূপটি এত বড় ও বিশাল যে সেটি অনায়াসে সাধারণ বহুতল ভবন চাপা দিতে সক্ষম। যে কোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকায় গিনির সরকার এ আবর্জনার স্তূপ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ঘোষণার এক সপ্তাহ পেরোনোর আগেই ঘটল এ দুর্ঘটনা।
জঞ্জালের স্তূপ সরাতে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যদের এক্সকেভটর ব্যবহার করতে হয়েছে। সিরে দিয়োলো নামের এক নারী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তিনি তার ৫ সন্তানকে হারিয়েছেন।
“আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। ঈশ্বরের ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই”, সাংবাদিকদের বলেছেন সিরে।
গিনি খনিজ সম্পদে বেশ সমৃদ্ধ। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির মাটির তলায় বক্সাইটের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক মজুত রয়েছে। এছাড়া দেশটির লোহার খনিগুলোও উল্লেখযোগ্য। পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ আকরিক রয়েছে খনিগুলোতে।
তবে এত সম্পদ থাকার পরও গিনির অবকাঠামোগত অবস্থা দুর্বল এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির জনসংখ্যা ১ কোটি ৫১ লাখ এবং তাদের মধ্যে ৩৭ লাখই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন।
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি সিজেপির
প্রকাশিত :
০৭:৫০, ২৪ আগষ্ট ২০২৬
সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতজুড়ে আবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা ফের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে দলটির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
সিজেপির অভিযোগ, আগের আন্দোলন স্থগিত করার সময় নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতির বিষয় রয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকেছে সিজেপি। একই বৈঠকে পরবর্তী আন্দোলনের ধরন ও কর্মসূচি নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এর মধ্যে দেশব্যাপী আবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরুর বিষয়টিও রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি।
এর আগে, সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ২৫ জুলাই তাদের প্রাথমিক আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে দলটি। তাদের ভাষ্য, সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও আন্দোলনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সিজেপি নেতাদের মতে, নতুন করে অসন্তোষের অন্যতম কারণ গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত একটি শুনানি। দলটির দাবি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।
সিজেপির দাবি, দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের একটি সমন্বিত তালিকা আদালতে জমা দিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনবার নির্দেশ দিয়েছে। দলটির ভাষ্য, ওই তালিকা পেলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মামলাগুলো একসঙ্গে বাতিল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আদালতের এসব নির্দেশের পরও মোদি সরকার ওই তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। দলটি আরও জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ হলেও তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো পূরণ হয়নি।
সিজেপির ভাষ্য, আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সব এফআইআর প্রত্যাহার বা বাতিল, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ‘সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার লিখিত নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোতে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারের প্রতিনিধিরাও এসব বিষয়ে দলটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেছে তারা।
আগের আন্দোলন স্থগিত করাকে নিজেদের সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে সিজেপি বলেছে, সেই সিদ্ধান্তকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। দলটির সতর্কবার্তা, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বন্ধ করার আশ্বাস দিয়ে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেলে তারা তা মেনে নেবে না।