img

খাসির মাংস খেতে চাওয়ায় ছেলেকে পিটিয়ে মারলেন বাবা, প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করলেন মা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

খাসির মাংস খেতে চাওয়ায় ছেলেকে পিটিয়ে মারলেন বাবা, প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করলেন মা

শ্রাবণ মাসে বাড়িতে খাসির মাংস (মাটন) খেতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৩০ বছর বয়সী ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টের চেষ্টার দায়ে নিহতের বাবা ও মা দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে মালওয়াড়ি থানার পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের নাম মহেশ গায়কোয়াড় (৩০)। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের ওয়ারজে মালওয়াড়ির বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শ্রাবণ মাসকে পবিত্র বিবেচনা করে অনেক পরিবার এ সময় মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকে। মহেশের পরিবারেও শ্রাবণ মাস উপলক্ষে নিরামিষ আহারের নিয়ম চলছিল। তবে মহেশ বাড়িতে খাসির মাংস রান্না করে খাওয়ার জন্য পরিবারের কাছে জোরাজুরি শুরু করেন।

এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা মহেশকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। বাবার নির্মম মারধরে মহেশ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পুলিশকে না জানিয়ে নিহতের মা স্বামীকে বাঁচাতে হত্যাকাণ্ডের আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে পারেননি তারা। স্থানীয় ওয়ারজে মালওয়াড়ি থানার পুলিশের কাছে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা ও আলামত নষ্টের প্রমাণ মেলার পর পুলিশ অভিযুক্ত বাবা ও মা উভয়কেই গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও তথ্য-প্রমাণ গোপনের অভিযোগে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ২৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৩, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়া হিমালয় থেকে উৎপন্ন হওয়া ভোটেকোশী ও ত্রিশূলি নদীর উপচে পড়া পানিতে ভেসে যাওয়া ডজনখানেক মানুষের লাশ গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকের মরদেহ ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে গেছে।

নেপাল অংশে ৫১১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৬৩৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, দেশটির তিব্বত অংশে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৪ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ হাজার ৩০১ জন মানুষকে উদ্ধার বা আহত অবস্থায় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নুয়াকোট ও রসুয়া জেলার বাসিন্দা।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর