img

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কয়েক’শ শ্রমিক, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

প্রকাশিত :  ১০:০৪, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কয়েক’শ শ্রমিক, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

নেপালের ত্রিশুলি নদীর তীরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জোরালো তৎপরতা চালানো হচ্ছে। টানেলের ভেতরে বেঁচে থাকা শ্রমিকদের জন্য পাইপের মাধ্যমে বাতাস সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ম্যানহোল খনন করে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

দেশটির ‘ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৬১ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

জ্বালানি, পানি সম্পদমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ শনিবার গভীর রাতে জানান, বন্যার পর কাদা ও পলিতে চাপা পড়ে ‘ত্রিশুলি-৩ এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর টানেলে চলমান উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্র দিয়ে টানেলের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পলি সরানোর কাজ করছেন। মন্ত্রী জানান, ওপরের অংশ দিয়ে ৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে ভেতরে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। এরপর টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানান, সেখানে যে গর্ত আছে সেটি আরও বড় করে একটি ম্যানহোল তৈরি করা হবে। রোববারের মধ্যে কয়েকটি পথ ব্যবহার করে মূল টানেলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার নেপাল সেনাবাহিনী একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ঘন কাদার মধ্য দিয়ে জীবিতরা হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। ওই ভিডিওটি রাসুওয়া জেলায় ধারণ করা হয়েছিল।

টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য নেপাল সরকার ভারত ও চীনের কাছে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অনুরোধ করেছে। শনিবার দুই দেশের উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কোন হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিম থাকবে না, সে হিন্দু নয়: আরএসএস প্রধান

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ৩০ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৬, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়—এমন ধারণা পোষণকারী ব্যক্তি প্রকৃত হিন্দু হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। শনিবার (৩০ আগস্ট) নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি আন্তধর্মীয় সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এনডিটিভির।

তিনি জানান, একবার এক বক্তৃতায় মুসলিম ভাইয়েরা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে আরএসএস একটি হিন্দু সংগঠন এবং হিন্দুরাষ্ট্রের কথা বলে, তাহলে মুসলিমদের কী হবে এবং তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘না, এটি হিন্দুত্ব নয়।’ কারণ হিন্দু হতে হলে সব পথ একই লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রয়েছে বলে বিশ্বাস করতে হবে।

নিজের বক্তব্যের সপক্ষে ১৯৯৬ সালের হরিয়ানার দাদরিতে হওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনায় অধিকাংশ যাত্রী মুসলিম ছিলেন। তবে তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধারকাজে নামার সময় ‘তারা মুসলিম’ এমন চিন্তা কখনোই করেননি এবং শেষকৃত্য থেকে শুরু করে সেবা প্রদান পর্যন্ত সবকাজ সমানভাবে করেছেন।

রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া এবং কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই সেবা করার কারণেই সংঘ এটি করতে পেরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সৌদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও কাজাখস্তান এয়ারলাইন্সের মধ্যে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে ৩৪৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও আরএসএস-কে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন আখ্যা দিয়ে মোহন ভাগবতের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউ ইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান ও মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর