img

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৮, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা

কলকাতার চাঁদনী চক এলাকার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আচমকা হামলা চালান বিজেপি সমর্থিত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত একদল বিক্ষোভকারী ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা প্রবেশদ্বারের দুটি থামে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন।

গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২১ আগস্ট এ নিয়ে প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। 

শিরোনামটির তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আনন্দবাজার পত্রিকাকে ওই শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গেরুয়া বসন পরে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর পরেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। এদিন দুপুরে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নামে কয়েকজন বি‌ক্ষোভকারী প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে হোয়াইট হাউজ নামে খ্যাত আনন্দবাজারের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভবনের মূল ফটকের উপরে গেরুয়া একটি উত্তরীয় ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ-অবস্থানে বসেন। 

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতেই পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও করতে পারে। কিন্তু গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধরে না-নিলে পরে বড় প্রতিবাদ হবে।’

কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মূল ফটকের পাশের দুই থামে গেরুয়া রঙ লাগিয়ে ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, দলের তরফে এমন কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি। এর আগেও যাদবপুরে তাণ্ডবের পর এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয় বলে দায় এড়িয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া দেয়ালটি আবারও সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ছবিটির ক্যাপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে লেখেন— ‘উচ্চ যেথা শির’। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মমতার ভাতিজির মৃত্যু নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩১ বছর বয়সী ভাতিজি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বৃষ্টি।

পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশও এমনটাই ধারণা করছে। তবে পুলিশ বলেছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি বোলপুর বিদ্যালয়ে করণিকের চাকরি করতেন। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। বাড়িতে একাকী মন খারাপ করে থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। সব মিলিয়ে তিনি একাকিত্ব ও অবসাদে ভুগছিলেন। চিকিৎসা চলছিল।

মেয়ের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় বলেন, বৃষ্টিকে কয়েকবার কলকাতায় নিয়ে পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল। খুব একটা ফল পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত মেয়েটা এভাবে চলে গেল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর