img

‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে উদ্বেগে নেই তেহরান: ইরানি রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত :  ১১:৪১, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে উদ্বেগে নেই তেহরান: ইরানি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হোসেইন জালিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তিনি বলেছেন, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রদূত হোসেইন জালিল রহিমি জাহানাবাদি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল আরব দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে হোসেইন জালিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, এই ক্ষেত্রে আমরা জানি যে আপনাদের সরকার একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলছে।

তিনি আরও বলেন, তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না। বরং আমরা মনে করি, এ মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এ মক্কা চুক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যে সমস্ত ইসলামিক দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না?

এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অতীতের বছরগুলোয় এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলতো, আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকা এ একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল- যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যদিও আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হস্তক্ষেপেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

হোসেইন জালিল রহিমি জাহানাবাদি মনে করেন, প্রণালী বা সমুদ্রপথ খোলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। আমার দৃষ্টিতে, এ মক্কা চুক্তিটি আসলে মার্কিনীদের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশ মাত্র। এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে আমেরিকার অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- ইরান কি এ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে?

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।

জালিল রাহিমি মনে করেন, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা একটি ‘পরমাণু অস্ত্র মুক্ত মধ্যপ্রাচ্য’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এ প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।

তিনি প্রশ্ন করেন, এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব এবং জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন-যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, আমেরিকা কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কঙ্গোতে এক সপ্তাহে পুড়ল ৭০০ ঘর, এবার স্কুলে আগুনে নিহত ২৯ শিশু

প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে চিমপুন্ডা এলাকার একটি বসতিতে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের উজামা ও ফুরাহা স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলিত ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হাসপাতাল ও কর্মকর্তাদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ পরিচালিত রেডিও ওকাপি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে চিমপুন্ডা এলাকার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ২০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৯-এ পৌঁছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে থাকার তথ্য জানিয়েছে এএফসি/এম২৩ কর্তৃপক্ষ; নিহতদের পরিচয় ও মোট সংখ্যার বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে বলে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে জানিয়েছেন। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া বহু শিক্ষার্থীকে বুকাভুর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন মারা গেছে বলে চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন।

আগুন লাগার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের পথ থেকে বের হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করলে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যায়। কেউ কেউ নিরাপদ পথ না পেয়ে বিপজ্জনকভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এতে অনেকে পদদলিত হন এবং ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে জ্ঞান হারান। রেডিও ওকাপির তথ্যেও কিছু শিক্ষার্থীর বাঁচার চেষ্টার সময় হুড়োহুড়িতে প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে।

এএফসি/এম২৩ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজন কাদুতু জেনারেল হাসপাতাল ও বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও প্রাণহানি হতে পারে।

স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীরা জানান, আগুনের পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেখানে নেওয়া হয়। তাদের অনেকেরই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, অন্যদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। আগুন নেভানোর পরও ধ্বংসস্তূপ ও পুড়ে যাওয়া টিনের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের কাজ চলছিল।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুকাভুতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে বুকাভুতে অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রেডিও ওকাপির তথ্যমতে, এক সপ্তাহে শহরটিতে প্রায় ৭০০টি ঘর আগুনে পুড়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের আগুনেই অন্তত ৭০টি ঘর ধ্বংস হয়। এর এক দিন পরও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

বুকাভু বর্তমানে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের শুরুতে পূর্ব ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এএফসি/এম২৩ বর্তমানে বুকাভুতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করেছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর