img

ইসরাইলের ‘অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে’ নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের ‘অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে’ নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি

ইসরাইলের বিরোধী দলীয় এমপি গিলাদ কারিভ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলে অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো জরুরি। খবর আনাদোলুর

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তদন্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানের সমালোচনা করে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

কারিভ অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর কয়েক মাস ধরে গাজার আশপাশের কিবুতজ এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি যেমন নেতানিয়াহু এড়িয়ে গেছেন, তেমনি ওই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে সেনাবাহিনীর তদন্তের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু বারবার ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ‘অবহেলা’ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনায় ‘সম্পূর্ণ অযোগ্যতার’ পরিচয় দিয়েছেন।

কারিভ বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তিকে আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ 

তার মতে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো এখন ইসরাইলি সমাজের ‘অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজন’।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে ইসরাইলেরাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশও এ দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে নেতানিয়াহুর সরকার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকারের নিয়োগ করা একটি তদন্ত প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।

নির্বাচনে চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর

ইসরাইলে আগামী  ২৭ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিচারও চলছে। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নতুন বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকা বড়, ইউরোপ ছোট

প্রকাশিত :  ০৬:৩৪, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বইয়ের পাতা, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল কিংবা গুগল ম্যাপে বিশ্ব মানচিত্র দেখলে পৃথিবীকে আমরা যেভাবে দেখি, বাস্তবে তা তেমন নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে যে আয়তনে দেখানো হয়, প্রকৃতপক্ষে এর আয়তন তার চেয়ে অনেক বেশি।

সাড়ে চারশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বৈশ্বিক ভৌগোলিক ভুল ও ঐতিহাসিক বিকৃতি সংশোধনে এবার পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘ। বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়েছে।

‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ বা ‘মানচিত্র সংশোধন করো’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪ ভোটে পাস হয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং বাহামাস প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এর লক্ষ্য হলো, প্রচলিত মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের আয়তন নিয়ে যে ভারসাম্যহীন উপস্থাপন রয়েছে, তা সংশোধন করে একটি ন্যায্য এবং সঠিক বিশ্ব মানচিত্র নিশ্চিত করা। যদিও জাতিসংঘের এই প্রস্তাব কোনো দেশের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর ফলে বিশ্বজুড়ে মানচিত্র প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ব্যবহৃত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানচিত্রগুলোর একটি হলো ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রকার জেরার্ডাস মারকেটরের তৈরি ‘মারকেটর প্রজেকশন’। সমুদ্রপথে নেভিগেশনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও পুরো পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে দেখানোর কারণে এতে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনে বড় ধরনের বিকৃতি দেখা যায়। এতে বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো তুলনামূলক ছোট এবং মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলো অনেক বড় দেখায়। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি মনে হয়। বিপরীতে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার মতো অঞ্চল ছোট দেখায়। 

উদাহরণ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের প্রকৃত আয়তন মাত্র ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও সাধারণ মানচিত্রে এটিকে প্রায় ৩০৪ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আফ্রিকার সমান দেখায়। অথচ আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। 

এই বিকৃতি দূর করতে ২০১৮ সালে এক দল মানচিত্রবিদ ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন একটি মানচিত্র প্রজেকশন তৈরি করেন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক অনুপাত অনেক বেশি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়। নতুন এই মানচিত্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। 

মানচিত্র বদলে প্রতিক্রিয়া 

জাতিসংঘে ভোটাভুটির আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেন, ‘একটি ন্যায্য পৃথিবী শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্রের মাধ্যমে। মানচিত্র কখনোই নিরপেক্ষ নয়, এটি মানুষের মানসিকতা তৈরি করে।’ 

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক জাতিসংঘের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানচিত্র পরিবর্তনের এই লড়াই কেবল ভূগোলের নয়; এটি মনস্তাত্ত্বিক আভিজাত্য ভাঙার লড়াই। কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিওকো মুয়েন্দো উল্লেখ করেন, মানচিত্র শুধু পর্যটকদের গাইড নয়, এটি রাজনীতি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। নতুন মানচিত্র বিশ্বদরবারে আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশাল জনসংখ্যা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর