img

রিয়াদে হামলার সতর্কতা জারির পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিয়াদে হামলার সতর্কতা জারির পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শনিবার ভোররাতে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপির সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পরপরই এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। তবে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর এ প্রথম সৌদি আরবের রাজধানী সরাসরি কোনো হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো।

গতকাল দিবাগত রাত তিনটার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, পুরো এলাকা এখন শত্রুদের বিমান/ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে আছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পরই এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর হামলার ঝুঁকি কমে যাওয়ায় জরুরি সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়।

ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা আগে থেকেই হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। চলতি মাসে লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলের পুরো অংশ নিজেদের দখলে নিতে আকস্মিক অভিযান শুরু করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতে চলে গেছে।

ইরান পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রাখতে বাব-আল মানদেব ব্যবহার করছিল। তবে হুতিরা এখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় তেল রপ্তানিতে আরও বিপাকে পড়েছে দেশটি।

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অবশ্য গত সপ্তাহেও তেল নিয়ে পাঁচটি জাহাজ এ জলপথ অতিক্রম করেছে।

হুতি বিদ্রোহীরা বারবারই দাবি করে আসছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য সব দেশের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক ওই জলসীমা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

এদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ইতিমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় তিন হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধ নয়, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশিত :  ০৯:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতায় মস্কো প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলুর

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের কিছু নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সংঘাত এবং রাশিয়ার কথিত হুমকিকে নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।

পুতিন বলেন, ‘আমি আবারও বলতে চাই, ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। এর পক্ষে কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা সহযোগিতা করতে এবং ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে প্রস্তুত।’

বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেন তিনি। পুতিনের দাবি, এসব মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারা সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং এর নিয়ম মেনে চলার কথা বলে। অথচ তারাই বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রয়োজনে রাশিয়া এর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিতে বসবাস করি। তা না হলে আমরাও জবাব দিতে বাধ্য হব।’

বৈঠকে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন পুতিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন করাই হবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ী—স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা—শক্তিশালী করাই হবে কর্মসূচির ‘পরম অগ্রাধিকার’। তার দাবি, এই সক্ষমতা রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

পুতিন জানান, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর ৯২ শতাংশ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।

এ ছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, চালকবিহীন ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন পুতিন। তার মতে, পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেনা ও অস্ত্রের ওপর তাৎক্ষণিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বার্তা দিলেও অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর