img

ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত এক লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

প্রকাশিত :  ১২:১৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত এক লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় দেশের ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজারো মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে বাব আল মানদাব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।

ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার অল্প সময়ের নোটিশে খুব সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। এরই মধ্যে স্থানীয় আশ্রয়স্থল ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও চলমান সংঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

ইরানসমর্থিত হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাব আল মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাব আল মানদাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প নৌপথ হিসেবেও এ জলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৯:৪৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রিপাবলিকান নেতা ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।

হান্ট সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ইরাকে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে ২০০৬ সালে বাগদাদে ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে কূটনৈতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন।

সৌদি আরবে থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

গত বছরের নভেম্বরে তিনি বলেন, সৌদি আরবে দুই বছর বসবাস এবং ইরাকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থায় জীবনযাপন কেমন হতে পারে, তা সরাসরি দেখেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি আরও বলেন, যারা তার ইসলাম নিয়ে সতর্কবার্তাকে ‘ভয় ছড়ানো’ বলে মনে করেন, তারা কখনো এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। তিনি সৌদি আরবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেন।

 ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্টেকলবেক টুনাইট টকশোতে হান্ট আরও বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম সম্পর্কে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’

তার দাবি, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশগুলোতে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

তার এসব বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনাও হয়েছে।  

দ্য নিউইয়র্কার এক প্রতিবেদনে বলছে,  হান্ট ও তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা মুসলিমদের নিয়ে বক্তব্যকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছিলেন।

হিউস্টন ক্রনিকল--এর কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসনও তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ভয় উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস অ্যাকশনের এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল অভিযোগ করেন, টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থীরা কে বেশি ‘মুসলিমবিরোধী’হতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন এবং ভোট পাওয়ার জন্য মুসলিমদের নিয়ে ভয় তৈরি করছেন।

ইসরাইলের কট্টর সমর্থক

হান্ট ইসরাইলেরও শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একজন সত্যিকারের মিত্র’ রয়েছে—আর সেটি হলো ইসরাইল। 

তিনি ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে যুক্তি দিতে দেশটির ইহুদি ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন।

হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এবং ইসরাইলের সঙ্গে আরও আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর ব্যাপারেও ওয়াশিংটনের সতর্ক থাকা উচিত।

২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হান্ট বলেন,  ইসরাইলই জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশটি যুক্ত করেছে


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর