img

রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশিত :  ০৬:২২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। আজ রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া আর কোনো হামলা বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি তারা।

এর আগে শনিবার সৌদি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ট্যাংক থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।

হুথিরা সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর পর শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবে হুথি হামলা বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এই সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ওই অঞ্চলে এবং অঞ্চলটির মধ্য দিয়ে ভ্রমণের বিষয়টি মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী সানায় হামলার চেষ্টা চালানোর জবাবেই এসব হামলা করা হয়েছে।

এর আগে আল-সারিয়া অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টি হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুথিদের  দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করে।

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের আকাশে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

প্রকাশিত :  ০৮:৫০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একইভাবে অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস। এ সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আপত্তির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় প্রতিটি এক টন (২ হাজার পাউন্ড) ওজনের প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক বাইডেন প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।

সিনেটর জিন শ্যাহিন অভিযোগ করেন, গাজায় নির্বিচার বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া সিরিয়ায় ইসরায়েলের আগ্রাসী বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটের ফরেন রিলেশনস ও প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যদের বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরকে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ নিরসন করে সম্মতি নিতে হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জিন শ্যাহিন বলেন, \"ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে—তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।\"

নেতানিয়াহু সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন আরও বলেন, \"নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। অথচ নেতানিয়াহু সরকার এ বর্বরতা থামাতে কিছুই করেনি।\"

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর