মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সামরিক চাহিদা পূরণে তুরস্ক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানান, পাকিস্তানসহ ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হতে পারে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ডন।
হাকান ফিদান জানান, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আক্রমণ ঘটছে এবং ত্রিপক্ষীয় জোট চুক্তির কারণে আঙ্কারা রিয়াদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। বিশেষ করে কিছু কারিগরি বিষয়ে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন থাকতে পারে এবং তুরস্কের তা পূরণে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত মাসে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইয়েমেনের জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির স্থবিরতার মুখে বিকল্প লোহিত সাগরীয় রুট হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাত এড়িয়ে চলা সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অংশ করা অগ্রহণযোগ্য। সংঘাত অবসান ঘটাতে সব পক্ষের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্যসীমা অতিক্রম করায় সব পক্ষের উচিত প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা।
ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী তুরস্ক স্পষ্ট করেছে, পাকিস্তান ও সৌদির সঙ্গে তাদের চুক্তিটি অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক জোটকে প্রতিস্থাপন করে না।
শনিবার ভোরে সৌদি রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখার কয়েক ঘণ্টা পর শহরের ‘সংবেদনশীল’ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। তুরস্ক এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: ডন



















