img

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতদিনের রূপরেখা দিয়েছে ইরান

প্রকাশিত :  ১৪:৩১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতদিনের রূপরেখা দিয়েছে ইরান

যুদ্ধের অবসান এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অংশ হিসেবে আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম দুটিকে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাতদিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া ও আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার জাপানের বার্তা সংস্থা ‘কিয়োদো’ প্রথম এমন তথ্য প্রকাশ করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটির দাবি তখন ইরানি গণমাধ্যম অস্বীকার করে। একইদিন নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি।

নিউইয়র্ক টাইমস আরাঘচির রবাত দিয়ে জানিয়েছে, সবশেষ পরিকল্পনায় সাতদিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত আছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, শর্ত পূরণ হলে সপ্তমদিনের মাথায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। আরাঘচি বলেছেন, পরিকল্পনাটির বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছেন। চীনও এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও আছে।

যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ খুলে দিতে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পুনরায় সংঘাতে জড়ায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১৪:২৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের বাইরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারসহ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ছিলেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে।

বিক্ষোভের আয়োজন করে ইহুদি অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সদর দফতরের বাইরে প্রায় ২০০ মানুষ জড়ো হন। তাদের অনেকের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। এতে লেখা ছিল—‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’। 

বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশ লাউডস্পিকারে তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কয়েকজন ফুটপাতে সরে গেলেও একটি দল রাস্তায় বসে নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরে সাইকেলে করে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

এরপর পুলিশ একে একে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে তুলে নেয়। তাদের হাত পেছনে নিয়ে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে পুলিশের বাসে তোলা হয়। বাসে ওঠানোর সময়ও বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।   

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান রয়টার্সকে বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, এই কর্মকাণ্ড তাদের নামে ও তাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। তাই এর বিরুদ্ধে কথা বলা তাদের দায়িত্ব।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটনে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠনও পরে ১০০ জনের বেশি আটকের দাবি করেছে। ফলে গ্রেফতারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে।  

অন্যদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও নেতানিয়াহুকে ঘিরে প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি মঞ্চে ওঠার পর বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের একটি অংশ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। রয়টার্সও জানিয়েছে, তার বক্তব্যের সময় কয়েক ডজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

নেতানিয়াহু তার ভাষণে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের আগে জাতিসংঘ সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ জানান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের ভাষণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তার বক্তব্যের মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। 

সূত্র : রয়টার্স