img

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ০৭:১২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা স্পষ্ট নয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এএনআইকে বলেন, ‘জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে রুশ পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংবলিত ওই চালান রাশিয়ার একটি কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষভাবে সুরক্ষিত কনটেইনারে করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

সূত্র: এএনআই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজে আরেকটি মার্কিন ডুবো ড্রোন আটক ইরানের, অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ডুবো ড্রোন আটকানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তবে ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি আটক করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত রেমাস ৬০০ ধরনের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। আটক ডুবোযানটি এর তথ্য উদ্ধারের জন্য ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

রেমাস ৬০০ ধরনের ডুবোযান যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এবং ন্যাটোর কয়েকটি দেশের বাহিনী ব্যবহার করে থাকে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। এসব ডুবোযানে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ক্যামেরা ও উন্নত সোনার প্রযুক্তি থাকতে পারে। সমুদ্রতল পর্যবেক্ষণ, মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণ এবং বিভিন্ন ধরনের পরিদর্শনের কাজে এগুলো ব্যবহার করা হয়। সর্বোচ্চ ৬০০ মিটার গভীরতায় এগুলো পরিচালনা করা সম্ভব।

তবে ইরানের দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আল জাজিরাকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের সব সক্রিয় ড্রোনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন ডুবোযান আটকের দাবি ইরান দ্বিতীয়বারের মতো করেছে। এর আগে মঙ্গলবার আইআরজিসি জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে আরেকটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান আটক করেছে তারা।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আগের ডুবোযানটি ছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি ডাইভ-এলডি। ওই দাবি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং এটি বর্তমানে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ রয়েছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর