img

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি

প্রকাশিত :  ০৭:০২, ০২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি

মুসলিমদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটির সরকারি ছুটির তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান পেল ইসলাম ধর্মের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সম্প্রতি বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বিলটিকে আইনে পরিণত করেন।

ওয়াশিংটনের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় কোনো অঙ্গরাজ্য হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া মুসলিমদের এই দুই ধর্মীয় উৎসবকে সরকারি স্বীকৃতি দিল। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিজীবী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঈদের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

নতুন এই আইনের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সুবিধামতো আলোচনা করে ঈদের দিনে প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এর ফলে কাজের চাপ কিংবা পড়াশোনার চিন্তা ভুলে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হলো ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ : ঈদ’ শিরোনামে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের পর আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সবচেয়ে বড় মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর একটির নিবাস এই ক্যালিফোর্নিয়া। এত দিন কাজের প্রয়োজনে বা পড়াশোনার কারণে অনেকেই ঠিকমতো ঈদ উদযাপন করতে পারতেন না।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আমরা তাদের সংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানালাম।’

একই মতামত ব্যক্ত করেছেন ‘ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স’-এর চেয়ারম্যান জেসন পাগুইও। তিনি জানান, সরকারি এই পদক্ষেপ শুধু দুই ঈদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকেই তুলে ধরে না, বরং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে মুসলিম ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার পথও সুগম করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়াশিংটন দুই ঈদকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার নজির গড়েছিল। এবার তাদের পথেই হাঁটল ক্যালিফোর্নিয়া।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দাম কমাতে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে ইউরোপ

প্রকাশিত :  ১৯:২০, ০২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২১, ০২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। প্রাথমিকভাবে মজুত থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মতে, বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মজুদ হ্রাস করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) দ্বারা সমন্বিত হবে এবং এটি চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

মাখোঁ জি৭ -এর বর্তমান সভাপতি – এই সংগঠনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানও রয়েছে – এবং নেতাদের এক ভিডিও বৈঠকের পর শুক্রবার তিনি এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাখোঁ বলেছেন, জি৭ দেশগুলো ‘পেট্রোলিয়াম পণ্যের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে’ চায়।

এদিকে, জি৭ নেতাদের জরুরি বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে আলোচনায় জি৭ নেতারা ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, ইউরোপ তাদের মজুত থেকে ডিজেল ছাড়বে এবং তা অবিলম্বে শুরু হবে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইউরোপ তাদের বিপুল পরিমাণ মজুত করা ডিজেল তেল থেকে বিশাল পরিমাণ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।’

প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত জি৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি মজুত থেকে ছাড়া হবে। আগামী চার মাসে ধাপে ধাপে এই মজুত বাজারে ছাড়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়েই বড় অংশের মজুত বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জি৭ জোটে রয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জোটটির সঙ্গে সদস্য হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপের ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়ে সমঝোতা করতে বৃহস্পতিবার রাতে মাখোঁর সঙ্গে এবং শুক্রবার সকালে জি৭ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প।

সূত্র : সিবিএস নিউজ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর