img

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ০২ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার সমকালকে বলেন, মামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

মিটিং হয়, দিন যায়, রাত আসে—কোনো সমাধান হয় না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশিত :  ১৮:০৪, ০২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করছেন। বারবার বৈঠক হলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো সমাধান হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত একটি দপ্তরেই আটকে আছে। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরকে দায়ী করে সমালোচনা করেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানিহাট সি ওয়ার্ল্ডের হলরুমে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত মতবিনিময় ও যোগদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতের দালাল আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। আর একটা হলো মানুষের পকেট কেটে নেওয়া চাঁদাবাজ বিএনপি বাংলাদেশটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। এই নষ্টদের থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। যদি এই নষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায় তাহলে আগামীকাল তারেক রহমানের সন্তান জাইমা রহমানও বিপদে পড়বে। কারণ, জাইমা রহমানও আগামীর ভবিষ্যৎ। আমাদের সমবয়সী প্রজন্ম।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরা অনেক কষ্ট-সাধনা করে এই বৈপ্লবিক পরিস্থিতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে যাত্রা করেছি। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে সংস্কার হবে। আপনারা বলেছিলেন, আগে নির্বাচন দেন, তাহলে বাংলাদেশে সংস্কার হয়ে যাবে। যদি নির্বাচন দেন, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। যদি নির্বাচন দেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন হয়ে গেল, চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। নির্বাচন হয়ে গেল, দুর্নীতি বেড়েই চলছে। নির্বাচন হয়ে গেল, সন্ত্রাসী বেড়েই চলছে। এখন আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, এগুলো কারা করে?

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এ এম মুন্না চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিফাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান আরিফ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মীর মোহাম্মদ শোয়াইব প্রমুখ।


বাংলাদেশ এর আরও খবর