img

সৌদির পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান, দ্রুত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদির পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান, দ্রুত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান দ্রুত সেনা মোতায়েন করবে। নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে তিন দেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব জানায়, গত আগস্টে তারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ তাকে সহায়তা করবে।

এই জোটে যুক্ত হয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি সৌদি আরব।

সোমবার রিয়াদে তিন দেশের প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত হুথিদের  নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ নিন্দা জানায়।

তারা আরও জানায়, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে পাঠানো এবং দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনারা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবে, তা বিবৃতিতে জানানো হয়নি।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল অবকাঠামো ও জাহাজ এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা নতুন করে অভিযান শুরু করে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর জবাবে সোমবার সৌদি আরবের সমর্থনে পালটা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের  নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৩, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের সেই যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা হলে সেটি নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল। যদি বিমানটি ছিনতাই হতো, তবে সেটি গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরাইল। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের সংকেত পাঠানোর পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় জরুরি প্রোটোকল সক্রিয় করে। বিমানটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরাইলি নাগরিক।

সিবিএস নিউজ জানায়, ফ্লাইটটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে গেলে ইসরাইলি বিমানবাহিনী ককপিটে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে কমান্ড সেন্টার চালু করা হয় এবং যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এ সময় বিমানটি ইসরাইলের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে মোড় নেয়। সৌদি আরবও নিজেদের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার হামলাকারী সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন। ককপিটের দরজা খোলার পর কয়েকজন যাত্রী ও ফ্লাইদুবাই কর্মী হামামিকে কাবু করেন। পরে দুই অফ-ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

সিবিএসের সূত্রগুলো বলেছে, বিমানটি ছিনতাই হয়েছে নিশ্চিত হলে এবং ছিনতাইকারী রেডিও যোগাযোগ বন্ধ রাখলে সেটি ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল শুধু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ৯/১১-এর মতো কোনো ঘটনা মোকাবিলায় এমন প্রোটোকল অনুশীলন করে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর