img

ইরাকের নাজাফে খামেনির শোক র‍্যালি, লাখো মানুষের ভিড়

প্রকাশিত :  ০৯:৪৪, ০৮ জুলাই ২০২৬

ইরাকের নাজাফে খামেনির শোক র‍্যালি, লাখো মানুষের ভিড়

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে পৌঁছেছে। শহরটিতে একটি শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে লাখো অনুসারী যোগ দিয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরাকি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের অনুসারীরা র‌্যালিতে যোগ দিয়েছেন। এতে উপস্থিতির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তারা রাস্তায় ও ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন।

নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলীর (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে করে বহন করেন।

প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টায় নাজাফে খামেনির শোক র‌্যালি শুরু হয়েছে। এরপর মাজার থেকে কুফা সেতু ও থাওরাত আল-আশরিন চৌরাস্তা হয়ে আল-সাদরিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে কফিনটি কারবালার দিকে যাত্রা করে।

ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস জানিয়েছে, নাজাফে অনুষ্ঠিত শোক র‌্যালিতে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকাহতরা আসতে থাকায় এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

পৃথক এক প্রতিবেদনে আল মায়াদিন টেলিভিশন কারবালা গভর্নরেটের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ কারবালায় ৭০ লাখ মানুষের ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছে।  

সরকারি সময়সূচিতে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে কফিন পবিত্র নগরী কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত এটি নাজাফে অবস্থান করবে।

খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। তিনি বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।

গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিনে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনিবার ও রোববার যথাক্রমে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হয়।

সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে শহরের রাজপথ পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার শহীদ নেতার জানাজার নামাজ আদায় করতে কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদে লাখো অনুসারী সমবেত হন।

শহীদ নেতার ইচ্ছানুযায়ী, বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে দাফন করা হবে এবং তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: প্রেস টিভি

img

পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

প্রকাশিত :  ১১:২১, ০৮ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা (যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। দেশটি জঘন্য। তাদের সঙ্গে কাজ করা শুধু সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যা বলে।’ ট্রাম্পের মতে, দুপক্ষের আলোচকরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি মনে করেন এসব আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না এবং এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে কুয়েত ও বাহারাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। 

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ‘দুষ্ট লোক’ বলে আখ্যা দেন এবং ইরানের প্রশাসনকে ‘পাগল’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দিতে হয়।

’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কিছু অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই লক্ষ্যবস্তু করবে।

এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর