img

শ্রীমঙ্গলে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই, আতঙ্কে বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত :  ০৫:৫২, ১৩ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই, আতঙ্কে বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে শহরের স্টেশন রোডের খাতুন ম্যানশনে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একাধিক দোকানে চুরি চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত প্লাস পয়েন্ট, সারধা টেলিকম ও আইডল ফ্যাশন। দোকানমালিকদের দাবি, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা।

একই রাতে উকিল বাড়ি রোডের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার বাড়িতেও চুরি হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, নগদ টাকা, টেলিভিশন ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্টেশন রোডের সন্ধ্যা ফার্মেসিতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের ওপরের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে আইপিএস, ব্যাটারি, ইনভার্টার মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায়।

শুধু দোকান বা বাড়ি নয়, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হবিগঞ্জ রোডের নুর ফুডস হোটেলের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীর হোন্ডা এসপি শাইন ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভূনবীর ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির আহমদ শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে মৌলভীবাজার রোডের পূবালী আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে নতুন একটি ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। বাড়ির মালিক জানান, এর আগেও একই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার হয়নি।

এদিকে গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় কলেজ রোডের উদয়ন স্কুলের সামনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় কর্মরত এক নারীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে পথরোধ করে চেইনটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।

এর কয়েক দিন আগে, ২৮ জুন, শহরের হবিগঞ্জ রোডের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ইকো শপের স্বত্বাধিকারী রায়হান মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত প্রতারকদের শনাক্ত করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া ২০ জুন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন জসিমের মিশন রোডের বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। তিনি থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো ফোন দুটি উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন।

শহরে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাতে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় থাকেন।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হঠাৎ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

শহরে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে প্রশাসন।



জাতীয় এর আরও খবর

img

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন । একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিযোগিতায় দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা লাভ করে।

জাতীয় এর আরও খবর